সারাদেশের মাঠ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন আগামীকাল রোববার থেকে শুরু হচ্ছে। সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এই সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এবারের সম্মেলনে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের পক্ষ থেকে জনগুরুত্বপূর্ণ মোট ৪৯৮টি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে।
শনিবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. হুমায়ুন কবির এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ৩ মে থেকে ৬ মে পর্যন্ত এবারের সম্মেলন চার দিন ধরে চলবে, যা বিগত বছরের তুলনায় একদিন বেশি। সম্মেলনে মূলত ভূমি ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, দারিদ্র্য বিমোচন এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মতো মৌলিক বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাবে। এ ছাড়া কর্মসংস্থান সৃষ্টি, তথ্যপ্রযুক্তির প্রসার, ই-গভর্ন্যান্স, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং পরিবেশ ও অবকাঠামো উন্নয়নের মতো বিষয়গুলো নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হবে।
সম্মেলনের সূচি অনুযায়ী, জেলা প্রশাসকরা দেশের রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করবেন। পাশাপাশি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও দুর্নীতি দমন কমিশনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও তাদের বিশেষ কার্য-অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে।
অতিরিক্ত সচিব আরও জানান, ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সব মিলিয়ে ৩৪টি অধিবেশন আয়োজিত হবে। এর মধ্যে ৩০টি থাকবে কার্য-অধিবেশন এবং বাকি চারটি অধিবেশন উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, সৌজন্য সাক্ষাৎ ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উন্মুক্ত আলোচনার জন্য নির্ধারিত।
প্রস্তাবনার বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন, মাঠ পর্যায় থেকে ১ হাজার ৭২৯টি প্রস্তাব পাওয়া গেলেও যাচাই-বাছাই শেষে ৪৯৮টি প্রস্তাবকে মূল কার্যপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব প্রস্তাবনায় নাগরিক সেবা ও স্বাস্থ্যসেবার মান বৃদ্ধি, জনভোগান্তি লাঘব, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পর্যটন শিল্প এবং বিদ্যমান আইন ও বিধিমালার প্রয়োজনীয় সংশোধনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এবার স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ সংক্রান্ত সর্বোচ্চ ৪৪টি প্রস্তাব জমা পড়েছে।