দক্ষিণী সুপারস্টার ধানুশ ও বলিউড অভিনেত্রী ম্রুণাল ঠাকুরের সম্পর্কের গুঞ্জন কয়েক মাস ধরেই তুঙ্গে। অনেকেই আশা করছেন, প্রেমের পর এবার বিয়ের সম্ভাবনাও আলোচনার বিষয়। ঠিক সেই সময়ে, ধানুশ জড়িয়ে পড়লেন সিনেমা সম্পর্কিত আইনি বিতর্কে।
ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ধানুশ ও কৃতি শ্যানন অভিনীত ‘তেরে ইশক মে’ ছবিটি নির্মাণ করেছেন পরিচালক আনন্দ এল রাই। ছবিটি ২০১৩ সালের সোনম কাপুর–ধানুশের হিট সিনেমা ‘রাঞ্ঝনা’র স্মৃতি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে বলে প্রচারিত হয়েছে। মুক্তির পর বক্স অফিসে সাফল্য পেয়েও সিনেমাটি এখন আইনি ঝামেলায় পড়েছে।
স্টুডিও ইরোস ইন্টারন্যাশনাল ‘তেরে ইশক মে’-র নির্মাতা আনন্দ এল রাই ও তার প্রযোজনা সংস্থা কালার ইয়েলো প্রোডাকশনসের বিরুদ্ধে ৮৪ কোটি রুপি ক্ষতিপূরণ মামলাও দায়ের করেছে। তাদের অভিযোগ, নতুন সিনেমাটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে ‘রাঞ্ঝনা’র স্পিরিচুয়াল সিক্যুয়েল হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। ২০১৩ সালের কাল্ট হিট ‘রাঞ্ঝনা’র সমস্ত কপিরাইট ও মেধাস্বত্ব ইরোসের অধীনে থাকায়, কোনো সিক্যুয়েল, প্রিক্যুয়েল বা রিমেক বানাতে হলে তাদের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক।
ইরোসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “আনন্দ এল রাই ও তার টিম ‘রাঞ্ঝনা’র নস্টালজিয়া ব্যবহার করে নতুন ছবিটি ব্র্যান্ড করছেন, যা বাণিজ্যিক নিয়মের লঙ্ঘন। এজন্যই আমরা বম্বে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করে ৮৪ কোটি রুপি ক্ষতিপূরণ দাবি করেছি।”
তবে শুধু ট্রেডমার্ক লঙ্ঘন নয়, দুটি সিনেমাতেই মোহাম্মদ জিশান আইয়ুব অভিনীত জনপ্রিয় চরিত্র ‘মুরারি’-র ব্যবহার নিয়েও ইরোস আপত্তি তুলেছে। তাদের দাবি, অনুমতি ছাড়া চরিত্রের ব্যবহার আইনি অধিকার লঙ্ঘন। এছাড়া ‘তেরে ইশক মে’-তে ধানুশের ‘শঙ্কর’ চরিত্রের সংলাপ, আবেগ ও জীবনদর্শন ‘রাঞ্ঝনা’-র ‘কুন্দন শঙ্কর’-এর সঙ্গে মিল রয়েছে বলে ইরোসের অভিযোগ।
ইরোস আরও জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জুলাই ও সেপ্টেম্বর মাসে তারা একাধিক সতর্কবার্তা পাঠিয়েছিল। যদিও ছবির প্রচার থেকে সাময়িকভাবে ‘রাঞ্ঝনা’ নামটি সরানো হয়, বাস্তবে কপিরাইট ও ট্রেডমার্ক লঙ্ঘন এখনও চলমান।
অন্যদিকে আনন্দ এল রাইয়ের ঘনিষ্ঠ সূত্র দাবি করছে, “‘তেরে ইশক মে’ সম্পূর্ণ আলাদা গল্পের সিনেমা এবং এটি ‘রাঞ্ঝনা’-র সরাসরি সিক্যুয়েল নয়।”
সূত্র: দ্য ওয়াল