মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে ইরানের ওপর নতুন করে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তেহরানের সাথে দ্রুত কোনো কার্যকর সমঝোতা না হলে দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ও তেলক্ষেত্রগুলোর পাশাপাশি পানি শোধনাগারগুলোও ধ্বংস করে দেওয়া হতে পারে। প্রথমবারের মতো ট্রাম্প সরাসরি বেসামরিক জনস্বাস্থ্যের সাথে সম্পৃক্ত পানি শোধনাগারকে লক্ষ্যবস্তু করার কথা উল্লেখ করায় নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, পানি শোধন কেন্দ্রগুলো হামলার শিকার হলে ইরানের সাধারণ মানুষের জন্য সুপেয় পানির সরবরাহ চরম সংকটে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরানের সাথে বর্তমানে আলোচনা চলছে এবং কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগতিও হয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, দ্রুত কোনো চুক্তিতে না পৌঁছালে এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করে না দিলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না।
এদিকে ট্রাম্পের এই বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে বিশ্লেষণ শুরু করেছেন আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, বেসামরিক স্থাপনা বা জনগুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালানো সরাসরি আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হতে পারে, যা বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনবে। এমন পরিস্থিতিতে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক রীতিনীতি মেনেই সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তবে প্রেসিডেন্টের এমন সরাসরি হুমকিতে অঞ্চলজুড়ে নতুন করে অস্থিরতা ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে।