পরীক্ষা, রোজা ও বিভিন্ন জাতীয় কর্মসূচির ব্যস্ত সময়সূচির মধ্যেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী বছরের ৬ জুনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শেষ করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর মধ্যে ঐকমত্য হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তবে ভোটের চূড়ান্ত তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে ১৪ সেপ্টেম্বর ইসি সাত ধাপে ইউপি নির্বাচন আয়োজনের প্রাথমিক পরিকল্পনা জানিয়েছিল। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম ধাপের ভোট ১২ নভেম্বর থেকে শুরু করে ২০২৭ সালের ২৭ মে পর্যন্ত নির্বাচন শেষ করার কথা ছিল। তবে পরবর্তী সমন্বয় ও বৈঠকের পর চূড়ান্ত সময়সূচি জানানো হবে।
নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, "নভেম্বর ও ডিসেম্বর জুড়ে পরীক্ষা। জানুয়ারিতে কিছুটা ফাঁকা সময় পাচ্ছি। কিন্তু সাত বা আটই ফেব্রুয়ারি থেকে রোজা শুরু। রোজা শেষ হওয়ার মাত্র একদিন পরে আবার এসএসসি পরীক্ষা শুরু। এসএসসি পরীক্ষা শেষে জুনের ছয় তারিখ আবার এইচএসসি পরীক্ষা শুরু। মাঝখানে একটা সময় পাওয়া যাচ্ছে।"
তিনি আরও বলেন, "এবার আমাদের স্পেসগুলো খুব টাইট। এই টাইট স্পেসের মধ্যে কীভাবে সব অ্যাকোমোডেট করবো, তা নিয়ে একটু সাইডলাইন ওয়ার্ক করা দরকার আছে। প্রাথমিক পরিকল্পনার ওপর সবাই মতামত দিয়েছেন। আমরা এটা নিয়ে কমিশনেও বসবো। সাচিবিক লেভেলে যে সমন্বয়গুলো প্রয়োজন, তা সম্পন্ন করা হবে। তারপর ডেট জানিয়ে দেবো।"
ইসি সানাউল্লাহ জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় যেভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও একই ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হবে। পাশাপাশি ভোটে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করা হবে বলেও জানান তিনি।
“সুতরাং, সেখানে সেনাবাহিনী থেকে সংশ্লিষ্ট সকল বাহিনীই থাকবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ব্যাপারে, বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ব্যাপারে আজকের সভার কনক্লুশানটা আমি যদি এক লাইনে বলি - সবাই এতে সম্মত হয়েছেন যে, আমাদের এই নির্বাচনটা পারতপক্ষে ছয়ই জুনের আগেই সম্পন্ন করতে হবে, এইচএসসি পরীক্ষার আগে,” বলেন নির্বাচন কমিশনার মি. সানাউল্লাহ।
আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের পর ইসি জানিয়েছে, ইউপি নির্বাচনের তারিখ যত দ্রুত সম্ভব চূড়ান্ত করে জানানো হবে।