মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ঢেউয়ে ইরানের তেল খাতে আয়ের গ্রাফে দেখা দিয়েছে উল্লেখযোগ্য উত্থান। এপ্রিল ২০২৬-এর সর্বশেষ পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে, গত মাসে দেশটির দৈনিক আয় ও মোট রাজস্বে বড় ধরনের বৃদ্ধি ঘটেছে।
তথ্য অনুযায়ী, মার্চ ২০২৬-এ ইরান প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৩৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেছে, যা ফেব্রুয়ারির ১১৫ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় প্রায় ২১ শতাংশ বেশি। কিছু বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে এই বৃদ্ধির হার এক মাসে প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছানোর কথাও বলা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই উল্লম্ফনের প্রধান কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়া। বিশেষ করে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েল-এর দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় ইরান উচ্চমূল্যে তেল বিক্রির সুযোগ পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনাও এই মূল্যবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করেছে।
একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে আগে যে বড় ছাড় দিয়ে তেল বিক্রি করতে হতো, এখন বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের ফলে সেই ছাড় কমে এসেছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যের কাছাকাছি দামে তেল বিক্রি করতে পারছে তেহরান।
রপ্তানি ক্ষেত্রেও কৌশলগত সুবিধা কাজে লাগাচ্ছে ইরান। হরমুজ প্রণালি-র অবস্থানকে কেন্দ্র করে এবং ‘শ্যাডো ফ্লিট’ ব্যবহারের মাধ্যমে দেশটি তেল রপ্তানি অব্যাহত রেখেছে। এ ক্ষেত্রে চীনের শোধনাগারগুলো ইরানি তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা হিসেবে ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে অন্যদের জন্য এই প্রণালি আংশিকভাবে বন্ধ রেখে নিজেদের রপ্তানি আয়ে বাড়তি সুবিধা আদায় করছে তেহরান।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা ও নৌ-অবরোধ সত্ত্বেও বিকল্প রুট ব্যবহার করে তেল বিক্রি চালু রাখতে সক্ষম হয়েছে ইরান। এর ফলে দেশটির জ্বালানি খাতে আয় ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।