বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার ক্ষেত্রে আগের সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্তে বড় পরিবর্তন এনেছে বর্তমান প্রশাসন। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় চূড়ান্ত করা ১ হাজার ৭১৯টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা সরাসরি কার্যকর না করে তা পুনরায় যাচাই-বাছাই করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন করে আবেদন আহ্বান করে সবগুলোর সমন্বয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বরাদ্দ সাপেক্ষে চূড়ান্ত তালিকা প্রণয়ন করা হবে।
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, পূর্বের তালিকাটি সম্পূর্ণ বাতিল করা হয়নি, বরং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সেগুলোকে নতুন আবেদনের সঙ্গে একত্রে পুনর্মূল্যায়ন করা হবে। তিনি জানান, ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫’ অনুযায়ী এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
পূর্বের তালিকা ও ব্যয়ের হিসাব
তথ্যমতে, গত জানুয়ারি মাসে অনলাইনে জমা পড়া ৩ হাজার ৬১৫টি আবেদনের মধ্য থেকে ১ হাজার ৭১৯টি প্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিকভাবে যোগ্য ঘোষণা করা হয়েছিল। এর মধ্যে নিম্নমাধ্যমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের প্রতিষ্ঠান ছিল। এই প্রতিষ্ঠানগুলো এমপিওভুক্ত করতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে বার্ষিক ৬৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছিল। যদিও চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল, কিন্তু তা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি।
দুর্নীতি ও অস্বচ্ছতার অভিযোগ
তালিকাটি স্থগিত করার পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ সামনে এসেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, আগের তালিকা প্রণয়নের সময় প্রতিষ্ঠানভেদে ২০ থেকে ৫০ লাখ টাকা এবং শিক্ষকপ্রতি ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ বাণিজ্যের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া মাত্র আট কর্মদিবসের মধ্যে সাড়ে তিন হাজারের বেশি আবেদন যাচাই করাকে প্রায় অসম্ভব ও নজিরবিহীন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। অভিযোগ রয়েছে, অনেক শিক্ষার্থীহীন ও বেহাল দশার প্রতিষ্ঠানও অনৈতিকভাবে ওই তালিকায় স্থান পেয়েছিল।
স্থগিত স্নাতক-স্নাতকোত্তর পর্যায়ের সিদ্ধান্ত
বেসরকারি কলেজের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরের শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত করার দীর্ঘদিনের দাবিটি গত সরকারের সময় নীতিগতভাবে গৃহীত হলেও বর্তমানে তা স্থগিত রয়েছে। নতুন করে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হলে এই স্তরের শিক্ষকদের বিষয়টিও পুনঃবিবেচনা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা
এমপিওভুক্তি প্রক্রিয়ায় এই নতুন মোড় এবং দীর্ঘসূত্রতার কারণে সারা দেশের হাজারো শিক্ষক-কর্মচারীর মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান সরকারি স্বীকৃতি পেলেও বছরের পর বছর আর্থিক সুবিধা না পাওয়ায় তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তবে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, যোগ্য প্রতিষ্ঠান নির্বাচন এবং আঞ্চলিক ঘনত্ব ও জনসংখ্যা বিবেচনা করে একটি স্বচ্ছ তালিকার মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।