ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কুমিল্লার রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের রদবদল ঘটেছে। বিশেষ করে কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট–লালমাই) আসনে ভোটের মাঠ এখন অনেকটাই একপাক্ষিক হয়ে ওঠার আভাস দিচ্ছে। শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় এই আসনে অনেকটা ‘ফাঁকা মাঠে গোল’ দিতে যাচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী।
ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন এই আসনের জন্য বিএনপির মনোনীত মূল প্রার্থী মো. আব্দুল গফুর ভূঁইয়ার মনোনয়নপত্র নির্বাচন কমিশন কর্তৃক বাতিল ঘোষিত হয়। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হলেও গত বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট তার রিট আবেদনটি খারিজ করে দেন। ফলে তার প্রার্থিতা চূড়ান্তভাবে বাতিল হয়ে যাওয়ায় নির্বাচনি মাঠের প্রধান একটি শক্তি লড়াই থেকে ছিটকে পড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ১০ দলীয় নির্বাচনি জোটের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রচারণায় তুঙ্গে রয়েছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও জামায়াত নেতা মো. ইয়াছিন আরাফাত। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও স্থানীয় ভোটারদের মতে, প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর অনুপস্থিতি ইয়াছিন আরাফাতকে এক অনায়াস জয়ের পথে অনেকটা এগিয়ে দিয়েছে।
তবে এই সমীকরণে এখনো একটি আইনি মোড় বাকি রয়েছে। বিএনপির অপর প্রার্থী মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার মনোনয়নপত্র নিয়ে সৃষ্ট আইনি জটিলতা এখনো অমীমাংসিত। তিনি নিজের প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার আশায় উচ্চ আদালতে আবেদন করেছেন, যার চূড়ান্ত রায় আগামী রবিবার আসার কথা রয়েছে। যদি আদালত তার আবেদন মঞ্জুর করেন, তবেই কেবল এই আসনে ইয়াছিন আরাফাতকে একটি সত্যিকারের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হবে। অন্যথায় লড়াইটি অনেকটাই একমুখী হয়ে পড়বে।
যদিও নির্বাচনি মাঠে আরও বেশ কয়েকজন প্রার্থী রয়েছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন— কাজি নুরে আলম ছিদ্দিকি (মুক্তিজোট), আব্দুল্লাহ আল নোমান (আমজনতার দল), মো. সামছুদ্দোহা (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), রমিজ বিন আরিফ (গণঅধিকার পরিষদ) এবং হাসান আহমেদ (বাংলাদেশ কংগ্রেস)। তবে স্থানীয় রাজনৈতিক বোদ্ধাদের ধারণা, সাংগঠনিক শক্তি এবং বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জামায়াত প্রার্থীর বিপরীতে তারা শক্ত কোনো চ্যালেঞ্জ গড়ে তুলতে পারবেন না।
সব মিলিয়ে রবিবার আদালতের রায়ের ওপরই নির্ভর করছে কুমিল্লা-১০ আসনের চূড়ান্ত নির্বাচনি চিত্র। আদালতের সিদ্ধান্ত যদি মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার বিপক্ষে যায়, তবে ইয়াছিন আরাফাতের বিজয় কেবল সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে।