নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের আসন্ন অধিবেশনে অংশ নেওয়ার পথে বাধার মুখে পড়েছেন ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। আগামী সপ্তাহের অধিবেশনে যোগ দিতে তাকে প্রবেশ ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ফিলিস্তিনি সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।
এর আগে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) কর্মকর্তা ও ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থার (পিএলও) সদস্যদের বিরুদ্ধে ভিসা নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দেয় ওয়াশিংটন। বিবৃতিতে আব্বাসের নাম সরাসরি উল্লেখ না করা হলেও ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থতা এবং শান্তির সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার মতো কর্মকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়েছে।
গত বছরও জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার জন্য ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের ভিসা দেওয়া হয়নি। সে সময় মাহমুদ আব্বাসও নিউইয়র্কে যেতে পারেননি এবং পরে ভিডিওবার্তার মাধ্যমে অধিবেশনে বক্তব্য দেন। এবারও একই পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও পিএলওর বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসবাদকে মহিমান্বিত করা’ এবং ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতকে ‘আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার’ চেষ্টা করার অভিযোগ তোলা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) মাধ্যমে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ এবং আলোচনার বাইরে গিয়ে ফিলিস্তিনকে একতরফাভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রচেষ্টার কথাও উল্লেখ করেছে ওয়াশিংটন।
অসলো শান্তি চুক্তির মাধ্যমে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠিত হয়। একই প্রক্রিয়ায় পিএলওকে ফিলিস্তিনি জনগণের আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এর বিনিময়ে পিএলও ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয় এবং সহিংসতা পরিত্যাগের ঘোষণা করে।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের এই ভিসা নিষেধাজ্ঞাকে ‘একটি অযৌক্তিক পদক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেছে। তাদের ভাষ্য, এই সিদ্ধান্ত পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠন, ফিলিস্তিন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক উন্নয়ন এবং দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরির প্রচেষ্টার পরিপন্থী।
ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা ট্রাম্প প্রশাসন ও ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় দখলদার শক্তির বিরুদ্ধে জবাবদিহি দাবি করার অধিকার ফিলিস্তিনিদের রয়েছে।
জাতিসংঘের সদরদপ্তর-সংক্রান্ত ১৯৪৭ সালের চুক্তি অনুযায়ী, নিউইয়র্কে জাতিসংঘের কার্যক্রমে অংশ নিতে বিদেশি কূটনীতিকদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার সাধারণ বাধ্যবাধকতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে। তবে ওয়াশিংটনের দাবি, নিরাপত্তা, চরমপন্থা ও পররাষ্ট্রনীতিসংক্রান্ত কারণ দেখিয়ে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ভিসা প্রত্যাখ্যানের সুযোগ তাদের রয়েছে।