২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ বাতিল করে সেই স্থানে ইতালিকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা ফিফার কাছে একটি বিশেষ প্রস্তাব পেশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত পাওলো জাম্পোলি। প্রভাবশালী গণমাধ্যম দ্য ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, জাম্পোলি ইতোমধ্যে এই পরিকল্পনা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ফিফা প্রধান জান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা সেরেছেন।
ইতালীয় বংশোদ্ভূত জাম্পোলি তার এই দাবির স্বপক্ষে যুক্তি দিয়ে জানিয়েছেন, চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে আজুরিদের বিশ্বকাপে খেলার মতো সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও যোগ্যতা রয়েছে। নিজ দেশ যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত এই মেগা ইভেন্টে ইতালিকে দেখা তার দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে এই প্রস্তাবের বিপরীতে ইরান সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিতব্য এই টুর্নামেন্টে অংশ নিতে তাদের জাতীয় দল পুরোপুরি প্রস্তুত। ফিফা সভাপতি জান্নি ইনফান্তিনোও গত সপ্তাহে এক বিবৃতিতে ইরানের যথাসময়ে অংশগ্রহণের ব্যাপারে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া এই ফুটবল মহাযজ্ঞে ইরানের ম্যাচগুলো নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ কিছু দিন ধরেই আলোচনা চলছে। গত মার্চে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বক্তব্যে ইরানি ফুটবলারদের স্বাগত জানালেও তাদের জীবন ও নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন, যদিও এর কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ তিনি ব্যাখ্যা করেননি। সূচি অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বে ইরান সিয়াটেল ও লস অ্যাঞ্জেলেসে বেলজিয়াম, নিউজিল্যান্ড এবং মিশরের মুখোমুখি হবে। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কথা বিবেচনা করে ইরান ফুটবল ফেডারেশন তাদের ম্যাচগুলো মেক্সিকোতে সরিয়ে নেওয়ার আবেদন করলেও ফিফা তা প্রত্যাখ্যান করেছে। সংস্থাটি সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, নির্ধারিত ভেন্যুতেই খেলা হবে এবং সকল দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আয়োজক দেশগুলোর দায়িত্ব।
পাওলো জাম্পোলির এই ব্যতিক্রমী প্রস্তাব ফুটবল বিশ্বে ব্যাপক বিতর্ক ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক কারণে মাঠের লড়াইয়ে যোগ্যতা অর্জনকারী কোনো দলকে বাদ দেওয়া ফিফার নিরপেক্ষতা ও ‘ফেয়ার প্লে’ নীতির পরিপন্থী। যদিও জাম্পোলি মনে করছেন, ইতালির মতো বড় দলের অন্তর্ভুক্তি টুর্নামেন্টের জৌলুস ও আকর্ষণ বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। রাজনৈতিক এই চাপানউতোরের মধ্যেও ইরান দল তাদের নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা এই ব্যক্তিগত প্রস্তাবকে কতটা গুরুত্ব দেয়।