শনিবার, 7 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

ফিফা সভাপতির বিরুদ্ধে উয়েফার সাবেক সভাপতির মামলা

বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা এবং এর প্রধান জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন উয়েফার সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা ও ফরাসি ফুটবল তারকা মিশেল প্লাতিনি।

ফিফা সভাপতির বিরুদ্ধে উয়েফার সাবেক সভাপতির মামলা
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা এবং এর প্রধান জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন উয়েফার সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা ও ফরাসি ফুটবল তারকা মিশেল প্লাতিনি। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে নিজের আইনি প্রতিনিধিদের মাধ্যমে তিনি একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছেন।

প্লাতিনির মূল দাবি, বিগত ২০১৫ সালে তাকে ফিফার শীর্ষ পদের নির্বাচনী লড়াই থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দূরে রাখতেই এক গভীর নকশা তৈরি করা হয়েছিল। তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এবং ফুটবলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে তার আগমন রুখতে মিথ্যা অভিযোগ সাজানো ও ক্ষমতার অপব্যবহারের আশ্রয় নেওয়া হয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ আনেন।

দায়েরকৃত এই মামলায় বর্তমান ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো ছাড়াও সুইজারল্যান্ডের ফুটবল পরিচালনা পর্ষদ এবং বিচার বিভাগের সাথে যুক্ত আরও পাঁচজন কর্মকর্তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্তদের তালিকায় সুইজারল্যান্ডের সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মাইকেল লাউবার এবং ফিফার সাবেক আইনি বিভাগের প্রধান মার্কো ভিলিগারও রয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা গেছে, এই ফৌজদারি মামলার পাশাপাশি ফুটবল নিয়ামক সংস্থাটির বিরুদ্ধে বিশাল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতিপূরণ চেয়ে একটি দেওয়ানি মামলা করার প্রক্রিয়াও শুরু করেছেন প্লাতিনি। এর আগে বিগত ২০২২ সালেও সুইস প্রশাসনকে লক্ষ্য করে এই ধরনের গুরুতর অভিযোগ এনেছিলেন এই সাবেক ফরাসি অধিনায়ক।

নতুন করে উত্থাপিত এই আইনি বিতর্ক নিয়ে ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফার পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হয়নি। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ২০১৬ সালে বর্তমান সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে ইনফান্তিনো দীর্ঘ সময় ধরে উয়েফাতে প্লাতিনির অধীনেই কর্মরত ছিলেন। একসময় সেপ ব্লাটারের উত্তরসূরি হিসেবে প্লাতিনিকেই ফিফার পরবর্তী প্রধান হিসেবে সবচেয়ে যোগ্য ও শক্তিশালী ভাবা হতো।

তবে ২০১৫ সালে একটি বড় ধরনের আর্থিক লেনদেনের বিষয় প্রকাশ পাওয়ার পর প্লাতিনির সেই অগ্রযাত্রা থমকে যায়। প্রায় ২০ লাখ সুইস ফ্রাঁ আদান-প্রদানের জেরে তৎকালীন ফিফা প্রধান সেপ ব্লাটার এবং প্লাতিনির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। তবে দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে ২০২২ সালে এবং পরবর্তী সময়ে উচ্চ আদালতেও তারা দুজনেই সমস্ত অভিযোগ থেকে সসম্মানে মুক্তি পান। সেই ঘটনার সূত্র ধরেই এবার বিশ্বকাপের প্রাক্কালে পুরোনো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে পুনরায় নতুন করে আইনি যুদ্ধ শুরু করলেন প্লাতিনি।