মিশরের কায়রোতে যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত মধ্যস্থতা প্রচেষ্টা থমকে যাওয়ার পর ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা জুড়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর বিমান ও স্থল অভিযান আরও ব্যাপক ও সহিংস রূপ ধারণ করেছে। আবাসিক ভবন, শরণার্থীশিবির ও ব্যস্ত বাজার এলাকার পাশাপাশি এবার গাজার অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন চৌকিকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল।
ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লাগাতার বোমাবর্ষণ এবং দফায় দফায় এলাকা ছাড়ার নির্দেশের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের জীবনধারণ ও মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়স্থলগুলোকেও ক্রমাগত ধ্বংস করা হচ্ছে, যার ফলে যুদ্ধবিধ্বস্ত এই অঞ্চলে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার আর কোনো জায়গা অবশিষ্ট নেই।
সর্বশেষ চার দিনের সামরিক অভিযানে নারী ও শিশুসহ আরও অন্তত ত্রিশজন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। এর ফলে বিগত ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাত ও আগ্রাসনে মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৩ হাজার ২৩৩ জনে।
এরই মধ্যে গত মঙ্গলবার উত্তর গাজার জাবালিয়া শরণার্থীশিবিরের পশ্চিম অংশে অবস্থিত একটি পুলিশ পোস্টে ইসরায়েলি ড্রোন আঘাত হানে। ওই হামলায় জাবালিয়া থানার প্রধান কর্মকর্তা মোহাম্মদ মারওয়ান সালেমসহ হামাস নিয়ন্ত্রিত স্থানীয় পুলিশ বাহিনীর বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও সদস্য ঘটনাস্থলেই নিহত হন। ভয়াবহ এই হামলার প্রভাবে নিকটবর্তী একটি জনাকীর্ণ বাজার এবং বাস্তুচ্যুত ও আশ্রয়হীন পরিবারগুলোর জন্য তৈরি করা তাঁবুগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।