গাজার সিভিল ডিফেন্স ও আল-আওদা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার গাজার মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের আল-বালাতা বাজার এলাকায় এই বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আহমাদ ইয়াসিন মসজিদের সামনে পূর্ববর্তী আরেকটি হামলায় নিহত এক ব্যক্তির শেষকৃত্য সম্পন্ন করার জন্য স্থানীয়রা জড়ো হয়েছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে একটি ইসরাইলি ড্রোন থেকে জনসমাগম লক্ষ্য করে সরাসরি বোমাবর্ষণ করা হয়, যার ফলে ঘটনাস্থলেই আটজন নিহত হন।
তেল আবিবের সামরিক বাহিনী এই অভিযানের কথা স্বীকার করে দাবি করেছে, মধ্য গাজায় সক্রিয় একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নিশানা করে এই নিখুঁত আক্রমণ চালানো হয়েছিল। তবে বেসামরিক নাগরিকদের হতাহত হওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, তা সামরিক বিধি অনুযায়ী খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এদিকে এই কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস। সংগঠনটির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর থাকার পরও তেল আবিব প্রশাসন প্রতিনিয়ত তা ভঙ্গ করছে এবং পরিকল্পিতভাবে বেসামরিক নাগরিকদের টার্গেট করে উপত্যকাজুড়ে মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করছে।
একই দিনে গাজার উত্তরাঞ্চলীয় বেইত লাহিয়া শহরের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে ড্রোন থেকে ফেলা বোমার আঘাতে ৫২ বছর বয়সি এক ফিলিস্তিনি নারী নিহত হন। এ ছাড়া মধ্য গাজার আজ-জাওয়াইদা অঞ্চল এবং নুসেইরাতের পশ্চিমাংশের আল-সাওয়ারহা এলাকায় বাস্তুচ্যুত মানুষের অস্থায়ী শিবিরের ওপর চালানো পৃথক দুটি হামলায় আরও দুজন প্রাণ হারান।
একই সঙ্গে গাজা সিটির একটি আবাসিক ভবনে আকাশযান থেকে হামলা চালানো হলে আরও একজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন শিশু মারাত্মকভাবে আহত হয়। দক্ষিণের খান ইউনিস এলাকাতেও ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে চিকিৎসাধীন এক নারীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
আন্তর্জাতিক যুদ্ধ মনিটরিং সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত অক্টোবর থেকে কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসন একদিনের জন্যও বন্ধ হয়নি। বিশেষ করে মে মাসের পর থেকে এই হামলার তীব্রতা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা যুদ্ধবিরতি পরবর্তী সময়ে সর্বোচ্চ।
ইসরাইলের স্থানীয় একটি গণমাধ্যমের পরিসংখ্যানে দাবি করা হয়েছে, চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে এ পর্যন্ত গাজায় প্রায় পৌনে তিনশ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা দৈনিক গড়ে একটি শিশুর প্রাণহানির সমান। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও কূটনৈতিক উদ্বেগ তৈরি হলেও গাজা উপত্যকায় শান্তি ফেরার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।