মঙ্গলবার, 27 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

ঘুমন্ত বাবাকে শিল-পাটা দিয়ে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে আটক

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় ঘুমন্ত অবস্থায় বাবাকে মসলা বাটার শিল দিয়ে আঘাত করে নির্মমভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার নিজের ছেলের বিরুদ্ধে। আজ শুক্রবার ভোর আনুমানিক চারটার দিকে উপজেলার পূর্ব সুবিদখালী গ্রামে এই লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে।

ঘুমন্ত বাবাকে শিল-পাটা দিয়ে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে আটক
ছবি : সংগৃহীত

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় ঘুমন্ত অবস্থায় বাবাকে মসলা বাটার শিল দিয়ে আঘাত করে নির্মমভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার নিজের ছেলের বিরুদ্ধে। আজ শুক্রবার ভোর আনুমানিক চারটার দিকে উপজেলার পূর্ব সুবিদখালী গ্রামে এই লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত ব্যক্তির নাম উত্তম দেবনাথ, যার বয়স হয়েছিল ষাট বছর। তিনি এলাকায় দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন। এই ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত ২৫ বছর বয়সী যুবক তাপস দেবনাথকে স্থানীয়রা ও পুলিশ মিলে আটক করে থানা হেফাজতে নিয়েছে।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উত্তম দেবনাথের ছেলে তাপস দীর্ঘদিন যাবত মারাত্মকভাবে মাদকাসক্ত ছিলেন এবং অতিরিক্ত মাদক গ্রহণের ফলে তার মানসিক ভারসাম্য কিছুটা বিঘ্নিত ছিল। ঘটনার রাতে স্বাভাবিক নিয়মেই রাতের খাবার শেষ করে উত্তম দেবনাথ ও তার ছেলে তাপস ঘরের ভেতর ঘুমিয়ে পড়েন এবং উত্তম দেবনাথের স্ত্রী কানন দেবনাথ ঘরের পেছনের বারান্দায় ঘুমাতে যান। ভোরের দিকে তাপস আকস্মিকভাবে বিছানা থেকে উঠে ঘরে থাকা মসলা বাটার ভারী শিল দিয়ে তার বাবার কপালের ডান পাশে সজোরে আঘাত করেন।

ওই সময় উত্তম দেবনাথের গোঙানি ও আর্তচিৎকার শুনতে পেয়ে তার স্ত্রী কানন দেবনাথ দ্রুত ঘরের ভেতর ছুটে আসেন। সেখানে স্বামীর রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত দেহ দেখে তিনি চিৎকার করতে করতে প্রতিবেশীদের ডাকতে যান। তার কান্না ও চিৎকার শুনে আশেপাশের বাসিন্দারা দ্রুত ছুটে এসে বিছানার ওপর রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে মির্জাগঞ্জ থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন।

খবর পাওয়ার পরপরই মির্জাগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা মরদেহের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণের ব্যবস্থা করে। একই সাথে ঘর থেকেই অভিযুক্ত সন্তান তাপস দেবনাথকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তৌহিদুজ্জামান এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুততার সাথে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। অভিযুক্ত তাপসকে ইতিপূর্বেই আটক করা হয়েছে এবং এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে সুনির্দিষ্ট অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। এই বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।