পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় ভেজাল দুধ তৈরির বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল ও উপকরণ ধ্বংস করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
রোববার বিকেলে উপজেলা হাসপাতাল সংলগ্ন কুঠিপাড়া এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এসব ক্ষতিকারক দ্রব্যাদি বিনষ্ট করা হয়।
অভিযান সূত্রে জানা গেছে, জব্দকৃত উপকরণের মধ্যে প্রায় ৬০০ কেজি গ্লুকোজ জেলি, ২০০ লিটার গ্লিসারিন এবং ৫০ লিটার সরবিটাল রয়েছে। পুলিশ জানায়, জনতা ট্রান্সপোর্ট নামক একটি মাধ্যমে কৈডাঙ্গা নতুনপাড়া গ্রামের আবুল বাশার ও ভবানীপুর গ্রামের জিসান এসব মালামাল আনিয়েছিলেন। অভিযুক্ত এই দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে কৃত্রিম উপায়ে নকল দুধ প্রস্তুত করার অভিযোগ রয়েছে। ইতিপূর্বেও তাদের কারখানায় অভিযান চালিয়ে আর্থিক জরিমানা করা হয়েছিল বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ প্রশাসন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমান এই অভিযানের বিষয়ে জানান, ভাঙ্গুড়া এলাকায় বেশ কিছু অসাধু চক্র নকল দুধ উৎপাদনের সাথে জড়িত। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের কর্মকাণ্ডের ওপর নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে রোববার বিশেষ সংবাদের ভিত্তিতে জিসান ও বাশারের নামে আসা এসব ক্ষতিকর রাসায়নিক জব্দ করে ধ্বংস করা হয়। অভিযানকালে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকায় তাদের সরাসরি আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রাণিসম্পদ বিভাগকে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রাসঙ্গিকভাবে উল্লেখ্য যে, ভাঙ্গুড়ায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এসব নকল দুধের কারখানা নিয়ে গণমাধ্যমে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর নড়েচড়ে বসে স্থানীয় প্রশাসন ও সচেতন দুগ্ধ ব্যবসায়ীরা। এরই প্রেক্ষিতে রোববার দুপুরে দ্রুত পদক্ষেপ নেয় উপজেলা প্রশাসন। ভোক্তা অধিকার ও ফৌজদারি কার্যবিধির সংশ্লিষ্ট ধারা মোতাবেক এসব জব্দকৃত মালামাল জনসম্মুখে বিনষ্ট করা হয়। এ সময় উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার রুমানা আক্তারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থেকে অভিযানে সহায়তা প্রদান করেন।