শনিবার, 7 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

গণ-অভ্যুত্থান দিবসে শহীদ পবিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেবে সরকার

আসন্ন ৫ আগস্ট দেশজুড়ে পালনীয় জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসে ওই ঐতিহাসিক আন্দোলনে আত্মত্যাগকারী শহীদদের পরিবারবর্গ এবং সম্মুখসারির বীর যোদ্ধাদের আনুষ্ঠানিকভাবে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

গণ-অভ্যুত্থান দিবসে শহীদ পবিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেবে সরকার
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ৫ আগস্ট দেশজুড়ে পালনীয় জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসে ওই ঐতিহাসিক আন্দোলনে আত্মত্যাগকারী শহীদদের পরিবারবর্গ এবং সম্মুখসারির বীর যোদ্ধাদের আনুষ্ঠানিকভাবে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আহমেদ আযম খানের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের এক যৌথ বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট সভার আনুষ্ঠানিক নথিপত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ওই দিন পূর্বাহ্নে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ঢাকা জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে একটি মূল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। সেখানে উপস্থিত শহীদদের স্বজন ও বিপ্লবীদের সম্মাননা জানানোর পাশাপাশি দিবসের গুরুত্ব নিয়ে বিশেষ স্মৃতিচারণামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। শুধু কেন্দ্রেই নয়, একই ধরনের সম্মাননা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে দেশের প্রতিটি জেলা সদরে। এর বাইরে প্রবাসে অবস্থিত বাংলাদেশের প্রতিটি কূটনৈতিক মিশন ও দূতাবাসেও এই দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাষ্ট্রীয় এই সিদ্ধান্তসমূহ মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, স্বরাষ্ট্র, অর্থ, গণপূর্ত ও স্বাস্থ্য বিভাগসহ পুলিশ প্রশাসন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধিদপ্তর এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৫ আগস্ট ঢাকাসহ সারা দেশের জেলাগুলোতে নির্মিত জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। রাজধানীর শাহবাগে অবস্থিত কেন্দ্রীয় স্মৃতিস্তম্ভসহ অন্যান্য স্থাপনাগুলোতে এই উপলক্ষে বিশেষ আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হবে। দেশের প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও পৌর এলাকায় আন্দোলনের চিত্র তুলে ধরে আলোকচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হবে এবং সারা দেশের ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে। এছাড়াও সাধারণ মানুষের জন্য ওই দিন দেশের সকল রাষ্ট্রীয় জাদুঘর সম্পূর্ণ বিনা টিকিটে উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ঐতিহাসিক এই দিনটির তাৎপর্য তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক বাণী প্রদান করবেন। পাশাপাশি দেশের সব সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান, কারাগার, এতিমখানা, শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র ও সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোতে ওই দিন উন্নত মানের খাবারের ব্যবস্থা করা হবে। রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়ক, মোড় ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো জাতীয় পতাকা, রঙিন নিশান ও বিশেষ ফেস্টুন দিয়ে সাজানো হবে। এর বাইরেও এই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে বিশেষ স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্তকরণসহ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রচনা, আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার মতো সৃজনশীল অনুষ্ঠানের আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।