ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
বুধবার নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বার্তায় গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র ফারুক হাসান এই হত্যাকাণ্ডে ওসমান হাদির আপন বড় ভাই শরীফ ওমর হাদির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে গভীর সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
ফারুক হাসান তাঁর পোস্টে দাবি করেন, ওসমান হাদির আকস্মিক মৃত্যুর পর বস্তুগতভাবে সবচেয়ে বেশি ফায়দা লুটেছেন তাঁর ভাই ওমর হাদি। তিনি অভিযোগ করেন, হাদির মৃত্যুর পরপরই অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে ওমর হাদি লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে একটি আকর্ষণীয় ও লাভজনক পদ বাগিয়ে নিয়েছেন। গণঅধিকার পরিষদের এই নেতা প্রশ্ন তোলেন, ওমর হাদি যদি চলমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে এই হত্যাকাণ্ডের জন্য আসলেই দোষী মনে করে থাকেন, তবে কোন নৈতিকতার ভিত্তিতে তিনি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রশাসনের অধীনে লন্ডনে কূটনৈতিক মিশন বা এই পদে চাকরি গ্রহণ করলেন? একই সঙ্গে তিনি ওমর হাদিকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।
এর আগে মঙ্গলবার গভীর রাতে ওমর হাদি তাঁর নিজস্ব ফেসবুক পেজে দুটি ভিন্ন পোস্টের মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একাধিক উপদেষ্টা, বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের হাত রয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তিনি তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, নিহত ওসমান হাদিকে ঢাকা-৮ সংসদীয় আসন এলাকা থেকে রাজনৈতিকভাবে মাইনাস করার জন্য দীর্ঘ দিন ধরে নানামুখী চাপ দেওয়া হচ্ছিল এবং এই প্রক্রিয়ায় আমিরে জামায়াতের একজন ব্যক্তিগত সচিব সরাসরি যুক্ত ছিলেন। এ ছাড়া তিনি প্রধান উপদেষ্টাকে উদ্দেশ্য করে সতর্কবাণী দিয়ে বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা না হলে সরকারও বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকটে পড়তে পারে।
প্রাসঙ্গিক তথ্য হিসেবে জানা গেছে, গত ১৫ জানুয়ারি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে ওমর বিন হাদিকে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে দ্বিতীয় সচিব হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটনের চেয়ে দুই পক্ষের তীব্র পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি ও ব্যক্তিগত আক্রমণ জনমনে নানা প্রশ্ন ও কৌতূহলের জন্ম দিচ্ছে।