বুধবার, 28 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

হাজারও মার্কিন প্যারাট্রুপার নামছে মধ্যপ্রাচ্যে, নতুন মোড় নিচ্ছে ইরান যুদ্ধ

মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি—এবার যোগ দিচ্ছে সেনাবাহিনীর অন্যতম অভিজাত ইউনিট ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশন। হাজার হাজার প্যারাট্রুপার ইতোমধ্যেই ওই অঞ্চলে পৌঁছাতে শুরু করেছেন বলে নিশ্চিত করেছে মার্কিন সূত্র।

হাজারও মার্কিন প্যারাট্রুপার নামছে মধ্যপ্রাচ্যে, নতুন মোড় নিচ্ছে ইরান যুদ্ধ

মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি—এবার যোগ দিচ্ছে সেনাবাহিনীর অন্যতম অভিজাত ইউনিট ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশন। হাজার হাজার প্যারাট্রুপার ইতোমধ্যেই ওই অঞ্চলে পৌঁছাতে শুরু করেছেন বলে নিশ্চিত করেছে মার্কিন সূত্র।

সোমবার (৩০ মার্চ) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের পরবর্তী কৌশল মূল্যায়নের মধ্যেই এই অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের গতি বাড়িয়েছেন।

এর আগে ১৮ মার্চ রয়টার্স প্রথম জানায়, ট্রাম্প প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে হাজার হাজার অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা করছে—যা সরাসরি ইরানের ভূখণ্ডে সেনা পাঠানোর সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। নর্থ ক্যারোলিনার ফোর্ট ব্র্যাগ থেকে আসা এই প্যারাট্রুপাররা মূলত ওই অঞ্চলে আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া নাবিক, মেরিন ও বিশেষ বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। গত সপ্তাহান্তেই প্রায় ২ হাজার ৫০০ মেরিন সেনা সেখানে পৌঁছেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই সেনাদের নির্দিষ্ট অবস্থান এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে তাদের মতে, এই মোতায়েন পূর্বপরিকল্পিত ছিল। নতুন এই বাহিনীতে ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের সদর দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, লজিস্টিক সহায়তা ইউনিট এবং একটি পূর্ণাঙ্গ ব্রিগেড কমব্যাট টিম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানে সরাসরি সেনা পাঠানোর বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হলেও, এই প্রস্তুতির লক্ষ্য ভবিষ্যৎ সামরিক অভিযানের সক্ষমতা বহুগুণ বাড়ানো। বিশেষ করে ইরানের তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশের কেন্দ্র ‘খার্গ দ্বীপ’ দখলের মতো কৌশলগত অভিযানে এই বাহিনী ব্যবহারের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

ইরানের বিরুদ্ধে এক মাসের এই যুদ্ধপর্বে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি এখন উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, খার্গ দ্বীপের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালানো হলে তা তেহরানের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দেবে। তবে এমন পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে আরও বিস্তৃত ও সহিংস করে তুলতে পারে, যেখানে ইরান-সমর্থিত অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একাধিকবার দ্রুত চুক্তির মাধ্যমে সংঘাতের সমাপ্তি চান বলে দাবি করেছেন, বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্যারাট্রুপার ও মেরিনদের এই বৃহৎ সমাবেশ সম্ভাব্য স্থল অভিযানের প্রস্তুতির দিকেই ইঙ্গিত করছে।

সামগ্রিক পরিস্থিতি বলছে, যুক্তরাষ্ট্র এখন আর কেবল আকাশ বা নৌপথে সীমাবদ্ধ নেই; বরং প্রয়োজন হলে ইরানের ভেতরে সরাসরি অভিযান চালানোর সব পথ খোলা রাখছে। ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের মতো একটি শক্তিশালী ইউনিটের মোতায়েন কার্যত সংঘাতের নতুন অধ্যায়ের সূচনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এই বাড়তি সামরিক উপস্থিতি নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল ইরান নয়, পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকেই ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। এখন নজর ওয়াশিংটনের পরবর্তী সিদ্ধান্তে—এই প্যারাট্রুপাররা শেষ পর্যন্ত ইরানের ভেতরে কোনো অভিযানে অংশ নেয় কি না।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল