ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্ত্রী মানসুরেহ খোজাস্তে বাঘেরজাদেহ চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাণ হারিয়েছেন।
আজ সোমবার আল জাজিরা ও ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। গত শনিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যে বিধ্বংসী বিমান হামলায় খামেনি নিহত হয়েছিলেন, সেই একই অভিযানে মানসুরেহ খোজাস্তে গুরুতর জখম হন। এরপর থেকে তিনি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। চিকিৎসকদের দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর অবশেষে আজ তার মৃত্যু হয়।
মানসুরেহ খোজাস্তে বাঘেরজাদেহ ইরানের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অঙ্গনে অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়া সত্ত্বেও ব্যক্তিগত জীবনে প্রচারবিমুখ ছিলেন। তিনি দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মাশহাদের একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মোহাম্মদ ইসমাইল খোজাস্তে বাঘেরজাদেহ ছিলেন মাশহাদের একজন খ্যাতিমান ব্যবসায়ী। পারিবারিকভাবেও তারা বেশ ক্ষমতাধর ছিলেন; তার ভাই হাসান খোজাস্তে বাঘেরজাদেহ ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবির উপ-পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ব্যক্তিগত জীবনের স্মৃতিচারণ থেকে জানা যায়, ১৯৬৪ সালে এক ঘরোয়া অনুষ্ঠানে আলী খামেনির সঙ্গে মানসুরেহ খোজাস্তের প্রথম আলাপ হয়। এর পরের বছর অর্থাৎ ১৯৬৫ সালে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের বিয়ের ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছিলেন সে সময়ের প্রখ্যাত আলেম মোহাম্মদ হাদি মিলানি। দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে তিনি পর্দার আড়ালে থেকে খামেনির রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। খামেনির মৃত্যুর পর তার স্ত্রীর এই প্রয়াণ দেশটির শোকাবহ পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।