রক্তক্ষয়ী সংঘাতে হাজারো প্রাণহানির পর উত্তেজনা কিছুটা কমাতে হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলের মধ্যে আংশিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছে লেবানন। তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, এই সমঝোতা সংঘাতের পূর্ণ অবসান ঘটাচ্ছে না।
সোমবার লেবাননের পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। চলমান সংঘাতে এ পর্যন্ত এক হাজারেরও বেশি লেবাননি নিহত হয়েছেন। একই সময়ে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক উত্তেজনা লেবাননের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ওয়াশিংটনে লেবাননের দূতাবাস জানিয়েছে, নতুন এই যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় ইসরাইলকে হিজবুল্লাহ-নিয়ন্ত্রিত বৈরুত ও আশপাশের এলাকায় হামলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিনিময়ে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহও ইসরাইলের বিরুদ্ধে হামলা স্থগিত রাখবে।
আংশিক যুদ্ধবিরতির বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আনেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে হিজবুল্লাহ ইসরাইলের ওপর নতুন করে হামলা না চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র হিজবুল্লাহকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। এছাড়া কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট এর আগে সরাসরি বা মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে সংগঠনটির সঙ্গে যোগাযোগ করেননি।
ট্রাম্প আরও বলেন, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বৈরুত লক্ষ্য করে পরিকল্পিত সামরিক বা আক্রমণাত্মক তৎপরতা প্রত্যাহারে সম্মতি জানিয়েছেন।
তবে ট্রাম্পের বক্তব্যের কিছুক্ষণ পরই নেতানিয়াহু জানান, দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, দেশটির স্থলবাহিনী বর্তমানে জাহারানি নদীর দিকে অগ্রসর হচ্ছে। গত ২৫ বছরের মধ্যে এটিই লেবাননের অভ্যন্তরে ইসরাইলি বাহিনীর সবচেয়ে গভীর অগ্রযাত্রা।
এদিকে লেবাননের পার্লামেন্ট সদস্য ও হিজবুল্লাহ নেতা হাসান ফাদলাল্লাহ বলেছেন, ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের শর্তে সংগঠনটি লেবাননে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতির পক্ষে থাকবে। তবে ইসরাইলের ভূখণ্ডে হামলা বন্ধের বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট অবস্থান জানাননি।
লেবানন সরকার জানিয়েছে, আগামী বুধবার ওয়াশিংটনে ইসরাইলের সঙ্গে আলোচনায় তারা যুদ্ধবিরতির পরিধি আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা করবে।
এর আগে গত ২ মার্চ হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরাইল। সেই থেকে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করে।
অন্যদিকে, ইরান দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে যে, যেকোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে লেবাননে ইসরাইলি হামলা বন্ধ করতে হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরান-সম্পর্কিত সংঘাত এবং লেবাননের পরিস্থিতি দুটি পৃথক বিষয়।
এ প্রসঙ্গে এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, “ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিঃসন্দেহে সব ফ্রন্টেই যুদ্ধবিরতি, যার মধ্যে লেবাননও রয়েছে।”