রবিবার, 8 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

হরমুজ ইস্যুতে আজ থেকে ফের শুরু হচ্ছে আলোচনা: ট্রাম্প

বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম স্পর্শকাতর জলপথ হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিক করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে তৈরি হওয়া আন্তর্জাতিক জটিলতা সমাধানে আবার নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হচ্ছে।

হরমুজ ইস্যুতে আজ থেকে ফের শুরু হচ্ছে আলোচনা: ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম স্পর্শকাতর জলপথ হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিক করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে তৈরি হওয়া আন্তর্জাতিক জটিলতা সমাধানে আবার নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় সোমবার থেকেই এই আলোচনাপ্রক্রিয়া পুনরায় সচল হচ্ছে। একই সাথে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, তেহরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টি এই মুহূর্তে স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দিতে তিনি রাজি হননি বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবর থেকে জানা গেছে।


অপরদিকে আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালিতে নতুন একটি বিকল্প সমুদ্রসীমা চালুর ব্যাপারে প্রতিবেশী ওমানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছানোর কথা জানিয়েছে ইরান। যদিও তেহরান পরিষ্কার করে বলে দিয়েছে, এই সমঝোতার অর্থ এই নয় যে প্রণালিটি আগের মতো পুরোপুরি উন্মুক্ত হয়ে যাবে। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিনিধি রাষ্ট্রীয় মাধ্যমে জানান, ওমানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এমন এক নতুন পথ চূড়ান্ত হচ্ছে যা উভয় দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা সুরক্ষিত রাখবে। তবে গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহের মতো পরিস্থিতি আর ফিরে আসবে না বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যেও একই ধরনের অগ্রগতির বিষয়টি উঠে এসেছে।

কূটনৈতিক এই টানাপোড়েনের মাঝে হরমুজ প্রণালির সন্নিকটে একটি বাণিজ্যিক তেলবাহী ট্যাংকারের কাছাকাছি আকস্মিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য তদারকি সংস্থা নিশ্চিত করেছে যে জাহাজ এবং এর নাবিকরা অক্ষত আছেন, তবে এ ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ এই বাণিজ্যিক রুটটির সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। এ খবরের প্রভাবে উক্ত প্রণালি দিয়ে নৌযান চলাচলের গতি কিছুটা শ্লথ হলেও লোহিত সাগরে সৌদি আরবের দুটি জ্বালানিবাহী ট্যাংকার কোনো বিঘ্ন ছাড়াই কৌশলগত প্রণালি পার হয়েছে।

এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশ বিষয়টি সুরাহার জন্য কিছুটা সময় চেয়ে আবেদন করেছে। ট্রাম্পের প্রত্যাশা, এই সমঝোতার ফলে জলপথটি অনতিবিলম্বে উন্মুক্ত হবে এবং একই সঙ্গে পারমাণবিক ঝুঁকির অবসান ঘটবে। নিউ জার্সি থেকে রাজধানী ওয়াশিংটনে ফেরার পথে বিমানে সফররত সাংবাদিকদের ট্রাম্প জানান, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরবের বিশেষ অনুরোধের কারণেই তিনি সামরিক পদক্ষেপ বিলম্বিত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। বিশেষ করে সৌদি যুবরাজের সঙ্গে ফোনালাপের পর তিনি বুঝতে পারেন যে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে সামরিক সংঘাতের চেয়ে কূটনৈতিক সমাধানই সবার কাছে গ্রহণযোগ্য।

তিনি আরও জানান, সোমবার দুপুরের পর থেকেই নতুন উদ্যেগে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে আলোচনার স্থান বা এতে কারা অংশ নিচ্ছেন সে বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেননি। একাধিকবার আগ্রাসী অবস্থানের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর মার্কিন প্রশাসনের এই নমনীয় মনোভাব ও সময় দেওয়ার সিদ্ধান্তকে এই বৈশ্বিক সংঘাতের এক তাৎপর্যপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।