মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ আগ্রাসী তৎপরতার মুখে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে রেখেছে ইরান।
এই অচলাবস্থা নিরসনে এবং নৌপথটি পুনরায় সচল করার লক্ষ্যে চীনের পক্ষ থেকে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন করেছে রাশিয়া।
আজ রোববার অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহে নিযুক্ত রাশিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি মিখাইল উলিয়ানভ মস্কোর এই নীতিগত অবস্থানের কথা নিশ্চিত করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় রুশ কূটনৈতিক উলিয়ানভ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, হরমুজ প্রণালির চলমান সংকট দূর করার বিষয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-র সাম্প্রতিক মন্তব্যের সঙ্গে মস্কো প্রশাসন সম্পূর্ণ একমত পোষণ করছে।
এর আগে বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে ওয়াং ই বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে যে তীব্র সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তা প্রশমিত করতে হলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি স্থায়ী, সুনির্দিষ্ট এবং বিস্তৃত যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর করা অত্যন্ত জরুরি।
রুশ দূত আরও জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠককালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংও অত্যন্ত দ্ব্যর্থহীন ভাষায় পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, কোনো বিষয়ে শক্তি প্রয়োগ বা সামরিক অভিযান কখনো স্থায়ী সমাধান এনে দিতে পারে না, বরং যেকোনো বৈশ্বিক সংকট নিরসনে পারস্পরিক সংলাপ ও কূটনৈতিক আলোচনাই একমাত্র সঠিক পথ।
আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি ও বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া ও চীনের এই যৌথ অবস্থান এমন একটি সময়ে সামনে এল, যখন হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজার এবং আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্যে অত্যন্ত নেতিবাচক ও বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। তবে এই দ্বিপাক্ষিক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের বিষয়ে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো প্রতিক্রিয়া বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।