রবিবার, 8 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

হরমুজ পেরোতে হলে টোল দিতে হবে, আইন করছে ইরান

হরমুজ প্রণালি ব্যবহারে ইচ্ছুক সকল বিদেশি জাহাজের ওপর বাধ্যতামূলক টোল বা মাশুল আরোপ করতে যাচ্ছে ইরান। এই লক্ষ্যে দেশটির পার্লামেন্ট একটি নতুন আইন প্রণয়নের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট আইনের খসড়া তৈরির কাজও শুরু হয়েছে।

হরমুজ পেরোতে হলে টোল দিতে হবে, আইন করছে ইরান
ছবিঃ সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালি ব্যবহারে ইচ্ছুক সকল বিদেশি জাহাজের ওপর বাধ্যতামূলক টোল বা মাশুল আরোপ করতে যাচ্ছে ইরান। এই লক্ষ্যে দেশটির পার্লামেন্ট একটি নতুন আইন প্রণয়নের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট আইনের খসড়া তৈরির কাজও শুরু হয়েছে।

ইরানি সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির পার্লামেন্টের একজন প্রভাবশালী সদস্য এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই আইনপ্রণেতা জানান, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ ও তদারকিকে একটি আনুষ্ঠানিক আইনি কাঠামোয় নিয়ে আসতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইনটি পাস হলে এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী প্রতিটি বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজকে নির্ধারিত হারে মাশুল প্রদান করতে হবে।

উল্লেখ্য, বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, যা আন্তর্জাতিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত শুরুর পর থেকেই ইরান এই রুটে অবরোধ আরোপ করেছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং হু হু করে বাড়ছে তেলের দাম, যা অনেক দেশের জন্যই উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তেহরান অবশ্য শুরু থেকেই দাবি করে আসছে যে, এই অবরোধ কেবল তাদের প্রতি ‘শত্রুভাবাপন্ন’ রাষ্ট্রগুলোর জন্য প্রযোজ্য। তবে গত ২৪ মার্চ জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সমুদ্র চলাচল সংস্থা (আইএমও)-কে দেওয়া এক চিঠিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের অবস্থান আরও স্পষ্ট করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, এমনকি বন্ধুপ্রতিম বা নিরপেক্ষ দেশগুলোকেও এখন থেকে বাণিজ্যিক প্রয়োজনে হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশের আগে ইরানের সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমতি নিতে হবে। নতুন আইন কার্যকর হলে অনুমতির পাশাপাশি আর্থিক মাশুল প্রদানের বিষয়টিও বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়াবে।