বিশ্ব বাণিজ্যের লাইফলাইন ও ভূ-রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করার অধিকার কোনো রাষ্ট্রেরই নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে কাতার। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান চরম সামরিক উত্তেজনার পারদ যখন আকাশচুম্বী, ঠিক তখনই আন্তর্জাতিক এই সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা নিয়ে নিজেদের অনড় অবস্থানের কথা প্রকাশ করল দোহা।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি এই বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন অনুযায়ী কোনো দেশই, কোনো অবস্থাতেই এই কৌশলগত জলপথে অন্য কোনো দেশের প্রবেশাধিকার কেড়ে নিতে কিংবা নৌচলাচল সম্পূর্ণ ‘অবরুদ্ধ’ করতে পারে না।
জ্বালানি সরবরাহ ও বর্তমান পরিস্থিতি
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের জোগান সচল রাখা এবং সামগ্রিক বাণিজ্যিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার তাগিদ থেকেই কাতারের এই কড়া হুঁশিয়ারি। সম্প্রতি কাতার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বোঝাই দুটি বিশাল ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি পার হয়ে গন্তব্যে রওনা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এই দুটি জাহাজ নিরাপদে পার হওয়া মানেই যে ওই সংবেদনশীল রুটে বাণিজ্যিক নৌযান চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়ে গেছে— এমনটি ভাবার কোনো কারণ নেই বলে সতর্ক করেছে কাতার। দেশিটি স্পষ্ট জানিয়েছে, সামগ্রিক বাণিজ্যিক পরিস্থিতি পুরোপুরি আগের অবস্থায় ফিরতে এখনো বেশ খানিকটা সময় লাগবে।
কেন এত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি?
জ্বালানি বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু: সারাবিশ্বের মোট উৎপাদিত খনিজ তেলের একটি বড় অংশ এই সরু প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয়।
এলএনজি সরবরাহের প্রধান রুট: কাতারের মতো বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় জ্বালানি রপ্তানিকারক দেশগুলোর এলএনজি বহনের একমাত্র ভরসা এই পথ।
সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সংঘাত ও বিভিন্ন দেশের সামরিক মহড়ার জেরে এই অতি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল যেকোনো সময় বন্ধ বা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কাতারের এই সাম্প্রতিক বিবৃতি মূলত সেই বৈশ্বিক শঙ্কা ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের গভীর উদ্বেগকে আরও একবার জোরালোভাবে সামনে এনে দাঁড় করাল।
সূত্র: আল-জাজিরা।