শনিবার, 24 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা

মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। একটি তেলবাহী ট্যাংকারে মার্কিন হামলার জেরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে বড় ধরনের পাল্টা আক্রমণ চালানোর দাবি করেছে ইরানের সামরিক বাহিনী।

হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। একটি তেলবাহী ট্যাংকারে মার্কিন হামলার জেরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে বড় ধরনের পাল্টা আক্রমণ চালানোর দাবি করেছে ইরানের সামরিক বাহিনী। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলোর বরাতে এই সংকটের খবর সামনে এসেছে।

তেহরানের ভাষ্যমতে, স্থানীয় সময় গত বৃহস্পতিবার মার্কিন বাহিনী তাদের একটি তেলবাহী জাহাজে আক্রমণের মাধ্যমে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করে। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌ শাখা মার্কিন রণতরিগুলোকে লক্ষ্য করে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এই অভিযোগ ও হামলার দাবি প্রসঙ্গে ভিন্ন তথ্য দিয়েছে। তাদের মতে, ইরানি আক্রমণগুলো সফলভাবে রুখে দেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তীতে ইরানের অভ্যন্তরে পাল্টা আঘাত হেনেছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইরান জানিয়েছে, তাদের জাস্ক বন্দরের নিকটবর্তী একটি ট্যাংকারে প্রথমে হামলা চালায় মার্কিন সেনারা। এর প্রতিশোধ নিতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে অতিক্রমরত যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি ডেস্ট্রয়ার— ইউএসএস ট্রাক্সটন, ইউএসএস রাফায়েল পেরাল্টা এবং ইউএসএস মেসনকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। অভিযানে জাহাজ-বিধ্বংসী ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানায় তেহরান। ইরানি পক্ষ আরও দাবি করে যে, তাদের এই শক্তিশালী হামলায় মার্কিন জাহাজগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ওমান উপসাগরের দিকে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে।

যদিও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানের এই দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের কোনো যুদ্ধজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। উল্টো আত্মরক্ষার অজুহাতে মার্কিন বিমান বাহিনী ইরানের বন্দর আব্বাস, কেশম দ্বীপ, মিনাব এবং সিরিক শহরের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় জোরালো ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা চালিয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পরিস্থিতি নিয়ে দেওয়া এক বক্তব্যে জানিয়েছেন যে, ওয়াশিংটন নতুন করে কোনো উত্তেজনা সৃষ্টি করতে আগ্রহী নয়। তবে মার্কিন বাহিনীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা যেকোনো ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। অন্যদিকে, এই পুরো ঘটনাকে মার্কিন আগ্রাসন হিসেবে অভিহিত করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইরান। এই পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত সংকটাপন্ন।