রবিবার, 8 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

হরমুজ ‘উন্মুক্ত’ রাখা ভারতের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার: মোদি

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালিকে সম্পূর্ণ সচল, ঝুঁকিমুক্ত ও উন্মুক্ত রাখার বিষয়টিকে ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

হরমুজ ‘উন্মুক্ত’ রাখা ভারতের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার: মোদি
ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালিকে সম্পূর্ণ সচল, ঝুঁকিমুক্ত ও উন্মুক্ত রাখার বিষয়টিকে ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই জলপথের সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক বিধিমালা ও আইন কঠোরভাবে মেনে চলার ওপরও বিশেষ জোর দিয়েছেন তিনি।

সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ইউরোপ ও পশ্চিম এশিয়ার পাঁচ দেশে সরকারি সফরের প্রথম দিনে আবুধাবিতে অবস্থানকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। সাম্প্রতিক ইরান সংকটের জেরে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং লজিস্টিক চেইন যখন চরম হুমকির মুখে, ঠিক তখনই মোদির এই কৌশলগত সফর শুরু হলো। হরমুজ প্রণালিতে চলমান অচলাবস্থার কারণে বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাসের পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারেও। উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে সম্প্রতি নয়াদিল্লিকে দেশীয় বাজারে পেট্রোল ও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি করতে হয়েছে।

বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ খনিজ তেল আমদানিকারক দেশ হিসেবে ভারত তাদের চাহিদার প্রায় অর্ধেক পরিমাণ জ্বালানি এই হরমুজ প্রণালি দিয়েই নিয়ে আসে। কিন্তু ইরান কেন্দ্রিক বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির পর থেকে এই রুট দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। এমন এক সংকটময় মুহূর্তে আবুধাবি পৌঁছে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গভীরতা প্রকাশ করে মোদি জানান যে, তিনি তার দ্বিতীয় বাড়িতে এসেছেন।

সংক্ষিপ্ত এই সফরে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সম্পন্ন করেন। বৈঠক শেষে তিনি নেদারল্যান্ডসের উদ্দেশে রওনা হন। আরব আমিরাতের আকাশসীমায় মোদির বিমানকে দেশটির সামরিক যুদ্ধবিমান দিয়ে বিশেষভাবে পাহারা দেওয়া হয়, যাকে ভারতের প্রতি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ এক সম্মাননা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সফরের আরেকটি বড় লক্ষ্য হলো ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও জোরদার করা। বিশেষ করে চলতি বছরের শুরুতে ভারত ও ইইউর মধ্যে যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, তার সফল বাস্তবায়নে মোদির এই বিদেশ সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।