ইরাকের আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি অঞ্চলে অবস্থানরত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করেছে ইরান। একইসঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনা অভিমুখে ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ–৪’-এর আওতায় ১৯তম দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করেছে তেহরান। গত ছয় দিন ধরে চলা এই বহুমুখী সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক ভয়াবহ যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি বৃহস্পতিবার ভোরে জানিয়েছে, তাদের সামরিক বাহিনী মূলত ‘ইরান-বিরোধী বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তি’কে নির্মূল করতে এই অভিযান চালিয়েছে। দেশটির গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে, পশ্চিম সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলো ভারী ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে। তেহরানের দাবি, ‘ইসরায়েলি-আমেরিকান’ পরিকল্পনা অনুযায়ী ইরানি ভূখণ্ডে সম্ভাব্য আক্রমণ রুখতে তারা স্থানীয় কুর্দিদের সঙ্গে সমন্বয় করে এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, অভিযানের সময় রাতের আকাশে মুহুর্মুহু বিস্ফোরণের আলোকচ্ছটা ছড়িয়ে পড়ছে। ইরাকের উত্তর সুলেইমানিয়া প্রদেশের আরাবাত, জারকুইজ ও সুরদাশসহ অন্তত চারটি এলাকায় শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু ছিল কুর্দিস্তান টয়লারস অ্যাসোসিয়েশন বা ‘কমালা’ নামক একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী। অভিযোগ রয়েছে, এই গোষ্ঠীগুলো সম্প্রতি ইরানের পশ্চিমাঞ্চলে হামলা চালানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরামর্শ ও বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছে। যদিও এর আগে ইরাক থেকে কোনো যোদ্ধা ইরানে প্রবেশের দাবি নাকচ করে দিয়েছিল তাসনিম নিউজ এজেন্সি।
কুর্দিস্তানে এই হামলার সমান্তরালে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন প্রান্তে মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলার ঘোষণা দিয়েছে। ইসরায়েলি গণমাধ্যম চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, পশ্চিম গালিলিয়া অঞ্চলে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এছাড়া সৌদি আরব অন্তত তিনটি ড্রোন প্রতিহত করার দাবি করেছে এবং কাতার তাদের দেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের নিকটবর্তী আবাসিক এলাকাগুলো খালি করার নির্দেশ জারি করেছে।