শনিবার, 7 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী সরকারে থাকলে তেলের টাকা হারাবে ইরাক: হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের

যুক্তরাষ্ট্র ইরাকের পরবর্তী সরকারে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করলে দেশটির ওপর নতুন ধরনের নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছে। খবর অনুযায়ী, এমন পরিস্থিতিতে ইরাকের তেল রপ্তানি থেকে আসা রাজস্বও স্থগিত হতে পারে। তথ্যটি রয়টার্স চারটি সূত্রের মাধ্যমে নিশ্চিত করেছে।

ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী সরকারে থাকলে তেলের টাকা হারাবে ইরাক: হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ইরাকের পরবর্তী সরকারে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করলে দেশটির ওপর নতুন ধরনের নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছে। খবর অনুযায়ী, এমন পরিস্থিতিতে ইরাকের তেল রপ্তানি থেকে আসা রাজস্বও স্থগিত হতে পারে। তথ্যটি রয়টার্স চারটি সূত্রের মাধ্যমে নিশ্চিত করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের প্রভাব সীমিত করতে যে প্রচারণা চালাচ্ছেন, এটি তার সর্বশেষ এবং কঠোরতম সতর্কবার্তা হিসেবে ধরা হচ্ছে। বাগদাদ দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে চলেছে।

রয়টার্সকে তিনজন ইরাকি কর্মকর্তা এবং বিষয়টি জানাসূত্র জানিয়েছে, গত দুই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স জশুয়া হ্যারিস বারবার বাগদাদের ইরাকি কর্মকর্তাদের এবং প্রভাবশালী শিয়া নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরান-সমর্থিত কিছু গোষ্ঠীর প্রধানদেরও এ বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। হ্যারিস বা মার্কিন দূতাবাস এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

ট্রাম্প প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ইরানকে দুর্বল করার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে, যার মধ্যে প্রতিবেশী ইরাকের মাধ্যমে চাপ প্রয়োগও অন্তর্ভুক্ত। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাকি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরান দীর্ঘদিন ধরে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও বাগদাদের ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে অর্থনীতিকে সচল রাখছে। গত কয়েক বছরে ওয়াশিংটন ডজনখানেক ইরাকি ব্যাংকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, তবে কখনোই ইরাকের তেল রাজস্ব বন্ধ করেনি।

ওপেকভুক্ত শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী দেশ ইরাকের তেলের অর্থ নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক হয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা হয়। ২০০৩ সালের আগ্রাসনের পর থেকে কার্যত যুক্তরাষ্ট্রের হাতে দেশের তেল রাজস্বের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ইরাকের সার্বভৌমত্ব এবং অঞ্চলের প্রতিটি দেশের সার্বভৌমত্বকে সমর্থন করে। এতে ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াদের কোনো ভূমিকা থাকা উচিত নয়, যারা ক্ষতিকর স্বার্থ হাসিল করতে চায়, সাম্প্রদায়িক বিভাজন সৃষ্টি করে এবং পুরো অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদ ছড়ায়।” তবে নিষেধাজ্ঞার হুমকির বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

সূত্র জানায়, হ্যারিসের বার্তাটি প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানি, শিয়া নেতা আম্মার হাকিম, হাদি আল-আমিরি এবং কুর্দি নেতা মাসরুর বারজানিকে জানানো হয়েছে। নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সুদানি নেতৃত্বাধীন জোট সবচেয়ে বেশি আসন পেলেও ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোও ভালো ফল করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নজরে ৫৮ জন ইরান-সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য রয়েছেন। একজন ইরাকি কর্মকর্তা বলেন, “আমেরিকানদের বক্তব্য ছিল, ওই ৫৮ জন যদি মন্ত্রিসভায় অংশ নেন, তবে তারা নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক স্থগিত করবে।” সংখ্যাগরিষ্ঠতা গঠনের জটিলতার কারণে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।

রেনাদ মনসুর, লন্ডনের চ্যাথাম হাউস থিংক ট্যাংকের ইরাক ইনিশিয়েটিভের পরিচালক, জানিয়েছেন যে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ইরাকের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো থেকে উপকৃত হচ্ছে। তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের হাতে বড় ধরনের লিভারেজ রয়েছে। ডলারের প্রবাহ বন্ধের হুমকি ইরাকের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক, কারণ দেশটির অর্থনীতি পুরোপুরি তেলের ওপর নির্ভরশীল।”

যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তির তালিকায় রয়েছেন আদনান ফাইহান, যিনি শক্তিশালী ইরান-সমর্থিত ‘আসায়িব আহল আল-হক’ (এএএইচ)-এর সদস্য এবং সংসদের প্রথম ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন। ইরাকি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চাপের মুখে এএএইচ নেতা কায়েস আল-খাজালি ফাইহানকে পদ থেকে সরানোর বিষয়ে রাজি হয়েছেন।

বিগত সরকারের সময় এএএইচ শিক্ষা মন্ত্রণালয় সামলেছিল এবং তারা পরবর্তী সরকারের অংশ হতে চায়। রয়টার্সের আগের প্রতিবেদনে বলা হয়, এএএইচ ইরান ও তার প্রোক্সিদের জন্য বছরে অন্তত ১০০ কোটি ডলার আয়কারী তেল পাচারের চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিল। ২০১৯ সালে ওয়াশিংটন এএএইচ-এর বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে খাজালির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।

ইরাকের তেল রপ্তানি আয়ের বড় অংশ নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা হয়। যদিও এটি ইরাক রাষ্ট্রের সার্বভৌম অ্যাকাউন্ট, তবে যুক্তরাষ্ট্র কার্যত এই রাজস্বের নিয়ন্ত্রণ রাখে।

পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র বলেন, “অঞ্চলে স্থিতিশীলতা অর্জনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টা রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব বজায় রাখা এবং পারস্পরিক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করায় নিবদ্ধ।”

বাগদাদের ওপর ডলার স্থগিতের চাপ এমন সময় প্রকাশ পেল যখন যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার তেল বাজারজাতকরণ শুরু করেছে এবং তেলের অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণাধীন অ্যাকাউন্টে জমা হচ্ছে।