রবিবার, 25 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

ইরান যুদ্ধ বন্ধ ও শান্তি আলোচনার আহ্বান চীনের

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান সংঘাত নিরসনে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধ করে শান্তি প্রক্রিয়া শুরুর আহ্বান জানিয়েছে চীন।

ইরান যুদ্ধ বন্ধ ও শান্তি আলোচনার আহ্বান চীনের
ছবিঃ সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান সংঘাত নিরসনে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধ করে শান্তি প্রক্রিয়া শুরুর আহ্বান জানিয়েছে চীন।

বৃহস্পতিবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে মুখপাত্র মাও নিং এই জোরালো আহ্বান জানান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এক আলটিমেটামের পরিপ্রেক্ষিতে বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে এই প্রতিক্রিয়া জানানো হলো।

উল্লেখ্য, গত বুধবার রাতে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে উদ্দেশ্য করে এক কঠোর হুঁশিয়ারি প্রদান করেন। তিনি জানান, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে দেশটিতে ‘অত্যন্ত কঠোরভাবে আঘাত’ হানা হবে। মাসব্যাপী চলা এই যুদ্ধ অবসানে ট্রাম্প এই নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। এর জবাবে মাও নিং বলেন, কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে হামলার হুমকি দেওয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। চীন শুরু থেকেই এই সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে এবং সামরিক শক্তি প্রদর্শনের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে স্থিতিশীলতা ফেরানোর ওপর জোর দিচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র মাও নিং গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা বিশ্ব সম্প্রদায়ের জন্য অত্যন্ত জরুরি। তবে এর জন্য সবার আগে অঞ্চলে চলমান সামরিক তৎপরতা বন্ধ করা প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন। কেবলমাত্র যুদ্ধবিরতির মাধ্যমেই মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার সম্ভব।

একই দিনে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিন রাশিদ আল জায়ানির সঙ্গে এক টেলিফোন সংলাপে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বর্তমানে ছয় জাতির উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বরত আল জায়ানি জানান, উপসাগরীয় দেশগুলো এখন গুরুতর নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি এই সংকট উত্তরণে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে চীনের সঙ্গে সমন্বয় বৃদ্ধির আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জবাবে ওয়াং ই যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের বিরোধিতা করে চীনের নীতিগত অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি জানান, চীন ও পাকিস্তান যৌথভাবে উপসাগরীয় অঞ্চল ও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে একটি ‘পাঁচ দফা উদ্যোগ’ ঘোষণা করেছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো—হামলা বন্ধ করা, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বার্থে স্বাভাবিক নৌ-চলাচল পুনরায় চালু করা। বেইজিং মনে করে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত উত্তেজনা প্রশমনে এখন গঠনমূলক ভূমিকা পালন করা।