ইরানের সামরিক সক্ষমতা লক্ষ্য করে পরিচালিত চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত জলসীমায় চালকবিহীন অত্যাধুনিক ‘ড্রোন স্পিডবোট’ মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন প্রথমবারের মতো কোনো সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্রে এ ধরনের নৌযান ব্যবহারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করল। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, এই বিশেষ অভিযানে টহল দেওয়ার পাশাপাশি নজরদারি জোরদার করতে এসব চালকবিহীন জলযান কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
পেন্টাগনের তথ্যমতে, ম্যারিল্যান্ডভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘ব্ল্যাক-সি’র তৈরি এই বিশেষ ড্রোন বোটগুলো ‘গ্লোবাল অটোনোমাস রিকনেসান্স ক্রাফট’ বা সংক্ষেপে ‘জিএআরসি’ (GARC) নামে পরিচিত। সেন্টকমের মুখপাত্র টিম হকিন্স জানিয়েছেন, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র সমর্থনে এই নৌযানগুলো ইতোমধ্যে ৪৫০ ঘণ্টারও বেশি সময় সমুদ্রে অতিবাহিত করেছে এবং ২ হাজার ২০০ নটিক্যাল মাইলের বেশি পথ পাড়ি দিয়ে সফলভাবে টহল সম্পন্ন করেছে।
এসব ড্রোন স্পিডবোটের বহুমুখী ব্যবহারের সক্ষমতা রয়েছে। এগুলো কেবল শত্রুদেশের গতিবিধির ওপর নজরদারি করতেই সক্ষম নয়, বরং প্রয়োজনবোধে আত্মঘাতী বা কামিকাজে হামলার জন্যও ব্যবহার করা যেতে পারে। ইউক্রেন যুদ্ধে বিস্ফোরকবোঝাই ছোট ছোট স্পিডবোট ব্যবহার করে রাশিয়ার বিশাল কৃষ্ণসাগরীয় নৌবহরের যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করা হয়েছিল, তার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে এ ধরনের ‘সি ড্রোন’ বা নৌ-ড্রোনের গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে যায়।
দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন নৌবাহিনী একটি স্বায়ত্তশাসিত নৌবহর গড়ে তোলার চেষ্টা করলেও কারিগরি ও প্রযুক্তিগত বেশ কিছু জটিলতার কারণে তা থমকে ছিল। তবে বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সেই প্রতিকূলতা কাটিয়ে এসব চালকবিহীন নৌযানকে সরাসরি রণক্ষেত্রে নামানো হলো। এর আগে পারস্য উপসাগরে তেলবাহী জাহাজ লক্ষ্য করে ইরানের পক্ষ থেকেও ড্রোন বোট ব্যবহারের পাল্টা অভিযোগ তুলেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।
যদিও যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত এই ড্রোন বোট দিয়ে সরাসরি কোনো আক্রমণাত্মক অভিযান চালানোর কথা স্বীকার করেনি, তবে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে এগুলো মোতায়েনের সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে ইরানের নৌ-প্রতিরক্ষাব্যুহ পর্যবেক্ষণ এবং জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পেন্টাগন এই প্রযুক্তির ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল হতে শুরু করেছে।