যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্মিলিত সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে ইরানে গত দুই সপ্তাহে প্রায় ৩২ লাখ নাগরিক নিজের ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর
আজ বৃহস্পতিবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি জানায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাতের সূত্রপাত হওয়ার পর থেকে বাস্তুচ্যুত মানুষের এই বিশাল সংখ্যাটি নিরূপণ করা হয়েছে। মূলত হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত এবং ঘর হারানো পরিবারগুলোর ওপর প্রাথমিক জরিপ চালিয়ে এই পরিসংখ্যান নিশ্চিত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
ইউএনএইচসিআর তাদের বার্তায় সতর্কবার্তা দিয়ে উল্লেখ করেছে যে, যুদ্ধের তীব্রতা এখনো না কমায় ঘরহীন মানুষের এই সংখ্যা ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। উদ্ভূত এই পরিস্থিতিকে সংস্থাটি চরম মানবিক বিপর্যয় হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘাতের ভয়াবহতা থেকে বাঁচতে সাধারণ মানুষ শহর এলাকা ত্যাগ করে গ্রাম অঞ্চলের দিকে দলে দলে পাড়ি জমাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলো দুর্গত মানুষের জন্য জরুরি ভিত্তিতে খাদ্য, পানীয় জল এবং নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করছে।
এদিকে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি অনুযায়ী, ইরানি নেতা মোজতবা বর্তমানে কোমায় রয়েছেন এবং তিনি তার একটি পা হারিয়েছেন। অন্যদিকে অলাভজনক মানবিক প্রতিষ্ঠান ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, চলমান এই যুদ্ধে দেশটিতে এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৩০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। যুদ্ধের একদম শুরুর দিন দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৭৫ জন শিক্ষার্থী ও একজন কর্মীর মৃত্যু হয়। তবে রেড ক্রিসেন্টের পক্ষ থেকে জানানো এই নিহতের তালিকায় ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি-র কতজন সদস্য রয়েছেন, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।