সোমবার, 26 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

ইরানে দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ভয়াবহ ও আগ্রাসী হামলা চালানো হবে: ট্রাম্প

ইরানে চলমান সামরিক অভিযানের লক্ষ্য অর্জনে যুক্তরাষ্ট্র সঠিক পথে রয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ইরানে দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ভয়াবহ ও আগ্রাসী হামলা চালানো হবে: ট্রাম্প
ছবিঃ সংগৃহীত

ইরানে চলমান সামরিক অভিযানের লক্ষ্য অর্জনে যুক্তরাষ্ট্র সঠিক পথে রয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বুধবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি ঘোষণা করেন, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে দেশটিতে আরও ভয়াবহ ও শক্তিশালী আক্রমণ পরিচালনা করা হবে। গত ৩২ দিনের যুদ্ধের ফলাফলকে ‘দ্রুত ও অপ্রতিরোধ্য বিজয়’ হিসেবে আখ্যায়িত করে ট্রাম্প জানান, ইরান এখন আর আমেরিকার নিরাপত্তার জন্য বড় কোনো হুমকি নয়। তবে দেশটির সক্ষমতাকে পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দিয়ে ‘পাথর যুগে’ পাঠিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।

ফেব্রুয়ারির শেষভাগ থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক প্রাণহানি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতেও ট্রাম্প তার সামরিক লক্ষ্য অর্জনে অনড় অবস্থানে রয়েছেন। রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, ওয়াশিংটন ও ইসরায়েলের সম্মিলিত হামলার কারণে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথ রুদ্ধ হয়ে গেছে। যদিও এই দাবির পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দেননি তিনি, তবে ভবিষ্যতে যেকোনো পারমাণবিক হুমকির জবাবে পুনরায় ‘স্পট হিট’ বা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলার হুমকি দিয়েছেন।

বিশ্বের অর্থনৈতিক সংস্থা আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক এই যুদ্ধের ফলে বৈশ্বিক মন্দার আশঙ্কা প্রকাশ করলেও ট্রাম্প সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করছেন না। উল্টো তিনি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি আমেরিকার জন্য অপরিহার্য নয়। যারা এই পথের তেলের ওপর নির্ভরশীল, সেই ইউরোপীয় মিত্রদের প্রতি তার পরামর্শ—নিজেদের শক্তি খাটিয়ে যেন তারা এই জলপথ পুনরায় সচল করে। এমনকি ইউরোপীয় দেশগুলো এই সংকটে সক্রিয় না হলে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিরক্ষা জোট ন্যাটো থেকে বেরিয়ে যেতে পারে বলেও প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে তেহরান কোনো ধরনের সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকে গুরুত্ব দিলেও ইরান সাফ জানিয়েছে, তারা কেবল স্থায়ী যুদ্ধবিরতির নিশ্চয়তা চায়। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বলছে, ইরান এখনই আলোচনায় বসার কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছে না। এমতাবস্থায় ট্রাম্প চূড়ান্ত আল্টিমেটাম দিয়ে বলেছেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমঝোতা না হলে ইরানের প্রতিটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে একযোগে হামলা চালানো হবে। ট্রাম্পের এই অনমনীয় অবস্থান এবং ইরানের কঠোর মনোভাব ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আগামী দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্য এক ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে এগোচ্ছে।