ইরানের সাথে নতুন করে সংঘাত শুরুর হুমকি দিয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, তার দেশ যেকোনো পরিস্থিতির জন্য সামরিকভাবে প্রস্তুত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সতর্কবার্তার পর তিনি এমন মন্তব্য করেন। বৃহস্পতিবার টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হলে বা কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারলে ইসরায়েল পুনরায় যুদ্ধ শুরু করতে দ্বিধা করবে না।
বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পাকিস্তানে দ্বিতীয় দফার বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে। ট্রাম্প প্রশাসন আশাবাদ ব্যক্ত করেছে যে, শীঘ্রই একটি চুক্তিতে আসা সম্ভব হবে। এই আলোচনার সূত্র ধরে পাকিস্তানের একটি প্রতিনিধি দল বুধবার ইরানে পৌঁছেছে। ইরানের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পূর্ববর্তী বৈঠকের তুলনায় কিছুটা অগ্রগতি হলেও এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের তেহরান সফর কিছু ক্ষেত্রে দূরত্ব কমাতে সাহায্য করলেও পারমাণবিক কর্মসূচির মৌলিক বিষয়গুলোতে দুই দেশ এখনো একমত হতে পারেনি।
ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সীমা এবং পারমাণবিক কার্যক্রমের ওপর বিধিনিষেধের সময়সীমা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বিরোধ বজায় আছে। এর সমাধান না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো কঠিন। তবে এর মধ্যেই হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, পরবর্তী বৈঠকটি ইসলামাবাদের হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে এবং তারা ইতিবাচক ফলাফলের প্রত্যাশা করছেন।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই আলোচনা সম্পর্কে জানিয়েছেন, ইরানের কয়েক দশকের পুরোনো পারমাণবিক বিরোধ মেটাতে এবং ছয় সপ্তাহের যুদ্ধ অবসানে তেহরানকে একটি বড় ধরনের চুক্তির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এক ভিডিও বার্তায় নিশ্চিত করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র সব বিষয়ে ইসরায়েলকে অবহিত রাখছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরান থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়া এবং তাদের সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করা তাদের মূল লক্ষ্য। সেই সঙ্গে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার বিষয়েও তারা অনড়।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালিটি মার্কিন নৌ-অবরোধের কেন্দ্রে রয়েছে, যা বিশ্ব তেলের বাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহু স্পষ্ট করেছেন যে, আলোচনার ফলাফল যাই হোক না কেন, ইসরায়েল সব সময় যুদ্ধের প্রস্তুতি বজায় রাখবে। এই সংকট কোন দিকে মোড় নেবে তা এখনই বলা সম্ভব না হলেও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সজাগ রয়েছে।