বৃহস্পতিবার, 29 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

ইরানে স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে পেন্টাগন

ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই সম্ভাব্য স্থল অভিযানের প্রস্তুতি জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। তবে এই পরিকল্পনায় শেষ পর্যন্ত অনুমোদন দেবেন কি না নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প—তা এখনো স্পষ্ট নয়। বিবিসি, ওয়াশিংটন পোস্টের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে।

ইরানে স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে পেন্টাগন

ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই সম্ভাব্য স্থল অভিযানের প্রস্তুতি জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। তবে এই পরিকল্পনায় শেষ পর্যন্ত অনুমোদন দেবেন কি না নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প—তা এখনো স্পষ্ট নয়। বিবিসি, ওয়াশিংটন পোস্টের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের সূত্রে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি কোনো পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ বা দখল অভিযানের পরিকল্পনা নয়। বরং বিশেষায়িত বাহিনী (স্পেশাল অপারেশন ফোর্সেস) এবং পদাতিক সেনাদের সমন্বয়ে সীমিত পরিসরের ঝটিকা অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

বর্তমানে উপসাগরীয় অঞ্চলের দিকে অগ্রসরমান মার্কিন জাহাজগুলোতে ৪ হাজারের বেশি মেরিন সেনা অবস্থান করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের প্যারাট্রুপাররাও প্রস্তুত রয়েছে। প্রয়োজনে আরও অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের বিষয়েও আলোচনা চলছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, এই স্থল অভিযান শুরু হলে তা ‘যুদ্ধের নতুন ধাপ’ সৃষ্টি করতে পারে এবং এতে মার্কিন বাহিনী আরও বড় ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে ইরানের ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং শক্ত প্রতিরোধের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছেন তারা।

অভিযানের সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে হরমুজ প্রণালীর নিকটবর্তী কৌশলগত খার্গ দ্বীপকে বিবেচনা করা হচ্ছে। ইরান তাদের উৎপাদিত অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশ এই দ্বীপের মাধ্যমেই রপ্তানি করে। আন্তর্জাতিক নৌপথ সচল রাখতে এই অবস্থানটি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এটি টার্গেট হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অভিযানের সময়সীমা নিয়েও ভিন্নমত রয়েছে। কেউ মনে করছেন, এটি কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে, আবার অন্য সূত্র বলছে, অভিযান কয়েক মাস পর্যন্তও গড়াতে পারে।

এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভেট জানিয়েছেন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্ভাব্য সব ধরনের প্রস্তুতি রাখছে, যাতে প্রেসিডেন্ট প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তবে এই প্রস্তুতি নেওয়ার অর্থ এই নয় যে, স্থল হামলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ৩০০ জন আহত হয়েছেন। এ বিষয়ে বিবিসি ও ওয়াশিংটন পোস্ট পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও আনুষ্ঠানিক কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য পাওয়া যায়নি।