শনিবার, 7 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

ইরানকে অস্ত্র না দিতে চীনা প্রেসিডেন্টকে চিঠি ট্রাম্পের

ইরানকে কোনো ধরনের সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ না করার আহ্বান জানিয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে চিঠি পাঠিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ইরানকে অস্ত্র না দিতে চীনা প্রেসিডেন্টকে চিঠি ট্রাম্পের
ছবিঃ সংগৃহীত

ইরানকে কোনো ধরনের সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ না করার আহ্বান জানিয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে চিঠি পাঠিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ফক্স বিজনেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প নিজেই এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। যদিও এই পত্র বিনিময়ের সুনির্দিষ্ট সময় নিয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি, তবে ইরানকে অস্ত্র দেওয়ার বিষয়ে বেইজিংকে আগেভাগেই সতর্ক করেছেন তিনি। গত সপ্তাহে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, কোনো দেশ ইরানকে সমরাস্ত্র দিলে তাদের পণ্যের ওপর তাৎক্ষণিক ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।

ফক্স বিজনেসের এক বিশেষ অনুষ্ঠানে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি শি জিনপিংকে অনুরোধ করেছেন যেন চীন ইরানকে অস্ত্র প্রদান থেকে বিরত থাকে। জবাবে চীনা প্রেসিডেন্ট তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে, তারা এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন, ইরান কেন্দ্রিক অস্থিরতা ও ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে প্রভাব পড়লেও আগামী মাসে চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার পূর্বনির্ধারিত বৈঠকে এর কোনো নেতিবাচক ছায়া পড়বে না। তিনি মন্তব্য করেন যে, জ্বালানির ক্ষেত্রে বেইজিংয়ের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও ওয়াশিংটন সেদিক থেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ।

পরবর্তীতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, হরমুজ প্রণালী স্থায়ীভাবে উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে বেইজিং সন্তোষ প্রকাশ করেছে। চীন এখন ইরানে অস্ত্র না পাঠাতে সম্মত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। ট্রাম্পের মতে, বিশ্ব শান্তির স্বার্থে দুই দেশ বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে কাজ করছে যা সংঘাতের চেয়ে উত্তম। তবে তিনি প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন যে, প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক লড়াইয়ে যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি পারদর্শী।

এদিকে আমেরিকার এই শুল্ক আরোপের হুমকির বিপরীতে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বেইজিং। মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছিল যে, চীন সম্ভবত আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরানকে নতুন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করতে যাচ্ছে। এই খবরের পরই ট্রাম্প কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন। তবে চীন এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বলে আখ্যা দিয়েছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন, মার্কিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বেইজিং সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইন ও নিজস্ব নীতিমালা অত্যন্ত কঠোরভাবে মেনে চলে। পাশাপাশি তিনি সতর্ক করেছেন যে, এই মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে শুল্ক বাড়ানো হলে চীনও পাল্টা ব্যবস্থা নেবে।

উল্লেখ্য, গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনএন তাদের প্রতিবেদনে দাবি করেছিল যে, ইরান চলমান যুদ্ধবিরতির সুযোগে তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে চীন থেকে কাঁধ থেকে ছোড়া বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র বা 'ম্যানপ্যাড' সংগ্রহের চেষ্টা করছে। এই অস্ত্রগুলো নিচু দিয়ে ওড়া মার্কিন যুদ্ধবিমানের জন্য বড় হুমকি হিসেবে বিবেচিত। এই ধরনের সমরাস্ত্র দিয়েই এর আগে আমেরিকার একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার ঘটনা ঘটেছিল, যা যুদ্ধবিরতি পরবর্তী সময়ে নতুন করে ওয়াশিংটনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।