সোমবার, 21 সেপ্টেম্বর 2026
সকল বিভাগ

ইরানকে সহায়তাকারী দেশগুলোর বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

ইরানের ওপর আরও কঠোর অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে যেসব দেশ ইরানকে সহায়তা করবে কিংবা দেশটির সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যে যুক্ত থাকবে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

ইরানকে সহায়তাকারী দেশগুলোর বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরানের ওপর আরও কঠোর অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে যেসব দেশ ইরানকে সহায়তা করবে কিংবা দেশটির সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যে যুক্ত থাকবে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে বড় হাতের অক্ষরে ট্রাম্প লিখেছেন, তিনি এখন পর্যন্ত “কোনো দেশের বিরুদ্ধে নেওয়া সবচেয়ে বিধ্বংসী অর্থনৈতিক অভিযান” শুরু করছেন।

তবে নতুন এই পদক্ষেপের ধরন বা পরিধি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি ট্রাম্প। ইরান ছাড়া অন্য কোনো দেশের নামও তিনি উল্লেখ করেননি।

এমন সময়ে ট্রাম্পের ঘোষণা এলো, যখন সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হয়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা সংঘাতের অবসানে এখনো কূটনৈতিক কিংবা সামরিক কোনো সমাধানের স্পষ্ট পথ দেখা যাচ্ছে না।

ট্রাম্পের সর্বশেষ ঘোষণাকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান অর্থনৈতিক চাপের আরও বিস্তৃত রূপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর আগে এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ও পেন্টাগন যৌথভাবে ‘অপারেশন ইকোনমিক ফিউরি’ ঘোষণা করে। এর আওতায় ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা বিদেশি ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল ইরানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসায়িক যোগাযোগ বন্ধ করে দেশটির রাজস্বের উৎসগুলো দুর্বল করা। এর অংশ হিসেবে ইরানের রপ্তানি ঠেকাতে নৌ অবরোধের ব্যবস্থাও রাখা হয়।

বুধবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ায় তিনি “অর্থনৈতিক ডি-ডে” শুরু করছেন।

ট্রাম্প বলেন, “যে কোনো দেশ তাদের আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বিমানবন্দর বা সরকারি সংস্থার মাধ্যমে ইরানকে যে কোনো ধরনের সহায়তার সুযোগ দেবে, সেই দেশকেও ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।”

তবে এসব দেশ ঠিক কী ধরনের শাস্তির মুখে পড়তে পারে, তা স্পষ্ট করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ট্রাম্প আরও বলেন, “তেল চোরাচালান, ব্যাংকের মাধ্যমে মুদ্রা বিনিময়, নগদ অর্থ স্থানান্তর, এক্সচেঞ্জ হাউস, জাহাজ নিবন্ধন ব্যবস্থা, আড়াল হিসেবে ব্যবহৃত কোম্পানি, সবকিছুই এখনই বন্ধ করতে হবে। আপনারা জানেন, আমি কাদের কথা বলছি।”

ট্রাম্পের ঘোষণার আগে গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের সঙ্গে সব ধরনের আর্থিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেয়। এর আগে আমিরাত নতুন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকির কথাও জানিয়েছিল।

দীর্ঘদিন ধরে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো দুবাইয়ের আর্থিক অবকাঠামো ব্যবহার করে বিভিন্ন এক্সচেঞ্জ হাউস ও কাগুজে কোম্পানির মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করে আসছে।

আমিরাতের সিদ্ধান্তের পর ইরানের সশস্ত্র বাহিনী প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে সহযোগিতা না করার সতর্কবার্তা দিয়েছে। তাদের ভাষ্য, মার্কিন বাহিনীকে যেকোনো ধরনের সহায়তাকেই সহযোগিতা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।