বুধবার, 28 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

ইসরায়েলে শব্দের ১২ গুণ গতির ‘ড্যান্সিং মিসাইল’ নিক্ষেপ ইরানের

ইসরায়েল ও মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তু লক্ষ্য করে নিজেদের অপারেশন ‘ট্রু প্রমিজ-৪’-এর ৫৪তম ধাপ শুরু করেছে ইরান।

ইসরায়েলে শব্দের ১২ গুণ গতির ‘ড্যান্সিং মিসাইল’ নিক্ষেপ ইরানের
ছবিঃ সংগৃহীত

ইসরায়েল ও মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তু লক্ষ্য করে নিজেদের অপারেশন ‘ট্রু প্রমিজ-৪’-এর ৫৪তম ধাপ শুরু করেছে ইরান।

রোববার পরিচালিত এই অভিযানে তেহরান তাদের অন্যতম বিধ্বংসী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘সিজ্জিল’ ব্যবহার করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি জোট ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম সিজ্জিল ক্ষেপণাস্ত্রের যুদ্ধকালীন মোতায়েন দেখা গেল।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির তথ্যমতে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ‘ইয়া জাহরা’ সাংকেতিক নামে এই বিশাল প্রতিশোধমূলক হামলাটি পরিচালনা করে। অভিযানে সিজ্জিলের পাশাপাশি সুপার-হেভি খোররামশাহর (দ্বৈত ওয়ারহেড যুক্ত), খাইবার, গদর এবং ইমাদ ক্ষেপণাস্ত্রের মতো শক্তিশালী সমরাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ মুসাভি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তেল আবিবের কমান্ড সেন্টার ও সামরিক অবকাঠামো ধ্বংসে সিজ্জিল ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে ইসরায়েলি গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টির জেরে তেল আবিব ও হার্জেলিয়াসহ অধিকৃত অঞ্চলের অন্তত ১৪১টি স্থানে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। সিজ্জিল ক্ষেপণাস্ত্রটি মূলত দুই ধাপবিশিষ্ট একটি ব্যালিস্টিক মিসাইল, যা সম্পূর্ণ ইরানি প্রযুক্তিতে তৈরি। এটি কঠিন জ্বালানি (সলিড ফুয়েল) চালিত হওয়ায় অত্যন্ত দ্রুত উৎক্ষেপণ করা সম্ভব, যা তরল জ্বালানিচালিত রকেটের ক্ষেত্রে সম্ভব হয় না। প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার পাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্রটির বিশেষত্ব হলো এর ‘ম্যানুভার’ ক্ষমতা বা উড্ডয়ন অবস্থায় দিক পরিবর্তনের দক্ষতা। এ কারণে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে পারায় একে ‘নৃত্যরত ক্ষেপণাস্ত্র’ বা ‘ড্যান্সিং মিসাইল’ বলা হয়।

প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৮ মিটার দীর্ঘ এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ৭০০ কেজি ওজনের বিস্ফোরক বা পারমাণবিক ওয়ারহেড বহন করতে পারে। শব্দের চেয়ে প্রায় ১২ থেকে ১৩ গুণ বেশি গতিসম্পন্ন সিজ্জিল মধ্য ইরান থেকে উৎক্ষেপণের মাত্র ৭ মিনিটের মধ্যে তেল আবিবে আঘাত হানতে সক্ষম। এর আধুনিক সংস্করণে অ্যান্টি-রাডার আবরণ থাকায় আয়রন ডোম বা প্রচলিত রাডার ব্যবস্থার পক্ষে একে শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব।

থিংকট্যাংক সিএসআইএসের তথ্যমতে, ২০০৮ সালে প্রথম পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের পর থেকে ইরান এই ব্যবস্থার ক্রমাগত উন্নয়ন ঘটিয়েছে। রোববারের হামলায় সিজ্জিলের কোন সংস্করণ (সিজ্জিল-১ নাকি উন্নত সিজ্জিল-২) ব্যবহৃত হয়েছে তা এখনো অস্পষ্ট। তবে এর আঘাতে ইসরায়েল ও সংশ্লিষ্ট মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নিরূপণ করছে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা। উল্লেখ্য, বিনা উসকানিতে শুরু হওয়া এই আকাশপথের আগ্রাসনের জবাবে ইরান শুরু থেকেই কঠোর পাল্টা ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছে।