জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবাজারগামী একটি বাসে এক নারী শিক্ষার্থীর অজান্তে ছবি তোলা এবং এর প্রতিবাদ করায় তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে এক ছাত্রের বিরুদ্ধে।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রকে তাৎক্ষণিকভাবে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
একই সাথে অপরাধের ভয়াবহতা বিবেচনা করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই ছাত্রের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা হিসেবে মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শনিবার বিকেল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে ছেড়ে যাওয়া বঙ্গবাজারগামী বাসে এই ঘটনা ঘটে।
উদ্ভূত পরিস্থিতির পর বাসটি পুনরায় ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে আনা হয় এবং অভিযুক্তকে সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখায় সোপর্দ করা হয়। সেখানে সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক এবং শামীমা নাসরিন জলি তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান এবং উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. শামছুল আলম নিরাপত্তা অফিসে উপস্থিত হয়ে ঘটনার বিবরণ শোনেন এবং শাস্তিমূলক পদক্ষেপের ঘোষণা দেন।
অভিযুক্ত ছাত্রের নাম মো. হাসানুর রহমান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং নবাব সলিমুল্লাহ হলের আবাসিক ছাত্র। অন্যদিকে ভুক্তভোগী নারী শিক্ষার্থী একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১তম আবর্তনের ছাত্রী।
লিখিত অভিযোগ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ থেকে জানা যায়, শনিবার বিকেলে বাস চলাকালীন ওই ছাত্রীর অজান্তে তার বেশ কয়েকটি স্থিরচিত্র ধারণ করেন হাসানুর রহমান। বিষয়টি বাসের অন্য এক শিক্ষার্থীর নজরে এলে ভুক্তভোগী ছাত্রী প্রমাণ হিসেবে অভিযুক্তের মোবাইল ফোনটি নিজের জিম্মায় নেন। এ সময় ছবি তোলার অভিযোগ অস্বীকার করে হাসানুর জোরপূর্বক ফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং ছাত্রীর ওপর চড়াও হন। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ওই ছাত্রী বাসের মেঝেতে পড়ে গিয়ে আঘাত পান।
এরপর হাসানুর ফোনটি কেড়ে নিয়ে বাস থেকে নেমে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালালে সহযাত্রী শিক্ষার্থীরা ধাওয়া করে তাকে আটকে ফেলেন এবং প্রক্টোরিয়াল বডির হাতে তুলে দেন। পরবর্তীতে নিরাপত্তা কার্যালয়ে প্রক্টোরিয়াল বডির উপস্থিতিতে অভিযুক্ত হাসানুর রহমান নিজের দোষ স্বীকার করে একটি লিখিত জবানবন্দি প্রদান করেন।
স্বীকারোক্তিমূলক ওই পত্রে তিনি অনুমতি ছাড়া ছবি তোলা এবং ফোন কেড়ে নেওয়ার সুবাদে ছাত্রীর সাথে ধস্তাধস্তি ও তাকে লাঞ্ছিত করার বিষয়টি অকপটে স্বীকার করে নেন। এ সময় প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে বাসে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থীও উপস্থিত ছিলেন।
সার্বিক বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান জানান, এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি জানার পরপরই প্রশাসন নিরাপত্তা অফিসে উপস্থিত হয়ে ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট সবার সাথে কথা বলেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বিধিমালা অনুযায়ী এবং লিখিত অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে অভিযুক্ত ছাত্রকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে থানায় নিয়মিত মামলা করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন উপাচার্য।