দেশের রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্রের অধ্যায় শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, জামায়াত রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশে আর পরিবারকেন্দ্রিক রাজনীতি থাকবে না, প্রতিষ্ঠা পাবে নতুন রাজনৈতিক ধারা।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে যশোর ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
জামায়াতের আমির বলেন, ‘অতীতের বস্তাপচা রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে আমরা বাংলাদেশে নতুন রাজনীতি নিয়ে আসব, যেখানে পরিবারতন্ত্রের রাজনীতি থাকবে না। আমাদের দলের বিজয় চাই না, আমরা দেশের ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই।’
তিনি জানান, জামায়াত সরকার গঠন করতে পারলে যশোর শহরকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা হবে। পাশাপাশি যশোর মেডিকেল কলেজে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল স্থাপন, যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়ন ও ভৌত অবকাঠামো সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
গণভোট প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, ‘গণভোটে হ্যাঁ ভোট মানেই আজাদি, আর না ভোট মানেই গোলামি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি প্রথম হবে হ্যাঁ ভোট, এরপর সরকার গঠনে প্রতীকের ভোট।’
বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘একদিকে ফ্যামিলি কার্ড, অন্যদিকে নারীদের গায়ে হাত। তাদের হাতে একজন মা-ও নিরাপদ হবেন না।’
নির্বাচনী প্রচারণায় নারী কর্মীদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে জামায়াতের আমির বলেন, ‘আমাদের কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার আপনারা কে? আচরণবিধি ভঙ্গ হলে আপনারা প্রশাসনকে বলুন। যে শাস্তি হয় আমরা মাথা পেতে নেব; কিন্তু আপনারা কে গায়ে হাত দেওয়ার? আমাদের মায়ের জাতিকে অপমান বরদাশত করব না।’
এ ধরনের বাধার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি যুব সমাজকে আহ্বান জানাব, যেখানেই বাধা আসবে, সেখানেই প্রতিহত করতে হবে। আমরা কারোর পায়ে পা দিয়ে ঝামেলা করব না। তবে কাউকে ছাড়াও দেবো না।’
প্রশাসনের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রশাসনকে অবশ্যই নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে এবং জনগণের পক্ষে অবস্থান নিতে হবে।
বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘যে দল নিজেদের কর্মীদের সামাল দিতে পারে না, তারা দেশও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। আগে আপনারা দলের মধ্যে শৃঙ্খলা ফেরান। এ ক্ষেত্রে যদি আমাদের কোনো সহযোগিতা লাগে, তাহলে আমরা দেব। আমরা সত্য ন্যায় ও নতুন বাংলাদেশ গড়ার পক্ষে।’
সমাবেশের শেষ পর্যায়ে যশোরের ছয়টি সংসদীয় আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের হাতে দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা তুলে দিয়ে তাদের জনগণের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন তিনি।
যশোর জেলা জামায়াতের আমির গোলাম রসুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলামসহ দলীয় নেতারা।