বুধবার, 28 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

জামায়াতের হামলায় বিএনপি নেতার চোখ নষ্ট হওয়ার খবরে মায়ের মৃত্যু

বগুড়ার নন্দীগ্রামে ভোটের টাকা বিতরণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে থালতা-মাঝগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা ওরফে মজিদ গুরুতর জখম হয়েছেন। হামলায় তার একটি চোখ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ছেলের উপর আঘাতের খবর শুনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন তার মা মাজেদা বেগম।

জামায়াতের হামলায় বিএনপি নেতার চোখ নষ্ট হওয়ার খবরে মায়ের মৃত্যু
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থালতা-মাঝগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা। ছবি সংগৃহীত

বগুড়ার নন্দীগ্রামে ভোটের টাকা বিতরণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে থালতা-মাঝগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা ওরফে মজিদ গুরুতর জখম হয়েছেন। হামলায় তার একটি চোখ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ছেলের উপর আঘাতের খবর শুনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন তার মা মাজেদা বেগম।

ঘটনা সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে নন্দীগ্রাম উপজেলার থালতা-মাঝগ্রাম ইউনিয়নের পারশন গ্রামে ঘটে। আহত মজিদের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার মা মাজেদা বেগম অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং শীঘ্রই হৃদরোগে মারা যান।

স্থানীয় সূত্র জানায়, রাতে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ভোট কেনার অভিযোগে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের স্থানীয় ৪ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি বেলাল হোসেন ও জামায়াতের কর্মী ফারুক হোসেনকে আটক করেন ধানের শীষের নেতাকর্মীরা। তাদের কাছ থেকে কিছু টাকার প্রমাণও উদ্ধার করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

আটক দুজনকে মাসুদ রানার পারশন গ্রামের বাড়িতে রাখা হয় এবং পুলিশকে জানানো হয়। খবর ছড়িয়ে পড়লে রাত ১২টার দিকে অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেলে করে জামায়াতের কর্মী-সমর্থকরা মাসুদ রানারের বাড়িতে হামলা চালায়। এই সময় বাড়ি ও আশপাশের কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুর এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। হামলায় আটক বেলাল ও ফারুককে উদ্ধার করে নিয়ে যান হামলাকারীরা।

মঙ্গলবার বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি নেতা মাসুদ রানার ছেলে, কলেজছাত্র সিয়াম আকন্দ অভিযোগ করেন, “মধ্যরাতে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা আমাদের বাড়িসহ কয়েকটি বাড়িতে হামলা চালায়। আমার বাবা-মাসহ পরিবারের সদস্যদের বেধড়ক মারধর করা হয়। একপর্যায়ে আমার বাবার চোখে আঘাত করে গুরুতর জখম করা হয়। এই খবর শুনে আমার দাদী মাজেদা বেগম হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।”

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা এবং বগুড়া-৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন। মোশারফ হোসেন অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেলে এসে বসতবাড়ি ভাঙচুর করেছে এবং আটক কর্মীদের ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। গুরুতর জখম মাসুদ রানাকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

অপরদিকে পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ বিএনপির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “সোমবার রাতে ভাটগ্রাম ইউনিয়নের ভুস্কুর গ্রামে বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলার শিকার হয়েছেন দাঁড়িপাল্লার কর্মীরা। থালতা-মাঝগ্রাম ইউনিয়নের পারশন গ্রামে ফারুক হোসেনকে মারধর করে আটক রাখার ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাই।” তিনি আরও বলেন, “জামায়াত টাকা দিয়ে ভোট কেনে না। এসব অভিযোগ গুজব, এবং আমরা সুন্দর ও মানবকল্যাণমূলক রাজনীতি চর্চার আহ্বান জানাচ্ছি।”