বুধবার, 28 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

‘জেল খাটলে কেমন লাগে’— সেই কৌতূহল মেটাতে খুনে জড়ালো ৬ বন্ধু

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ১১ বছর বয়সী শিশু হোসাইনের রহস্যজনক হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, ‘জেল খাটলে কেমন লাগে’—এই কৌতূহল থেকেই ছয় শিশু-কিশোর মিলে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটায়।

‘জেল খাটলে কেমন লাগে’— সেই কৌতূহল মেটাতে খুনে জড়ালো ৬ বন্ধু
গ্রেপ্তারের পর তাদের আদালতে পাঠায় পুলিশ।

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ১১ বছর বয়সী শিশু হোসাইনের রহস্যজনক হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, ‘জেল খাটলে কেমন লাগে’—এই কৌতূহল থেকেই ছয় শিশু-কিশোর মিলে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটায়।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সী জানান, নিহত শিশুর পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি এই ক্লুলেস হত্যার রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। এর আগে গত ২৪ এপ্রিল বিকেলে ফতুল্লার রেললাইন এলাকার একটি পরিত্যক্ত ভবনের তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে অজ্ঞাত এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পরে নিহত শিশুর পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়—তার নাম হোসাইন, বয়স ১১ বছর। গত ১৮ এপ্রিল বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়েছিল সে।

তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে পুলিশ সুপার জানান, হত্যার পেছনে একটি বিস্ময়কর কারণ পাওয়া গেছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘জেল খাটার অভিজ্ঞতা’ নেওয়ার কৌতূহল থেকেই ছয়জন শিশু ও কিশোর মিলে এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়। তাদের মধ্যে পাঁচজনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বয়স ১৪ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে হওয়ায় তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। এদের একজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, নিখোঁজের দিন সকালে ফতুল্লার শিয়াচর এলাকার ফুল বিক্রেতা সুমনের ছেলে হোসাইন ওই পরিত্যক্ত ভবনের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় অভিযুক্তরা তাকে গাঁজা সেবনের প্রলোভন দেখিয়ে ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর সেখানে ছয়জন মিলে তাকে হত্যা করে।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তরা সবাই মাদকাসক্ত এবং পূর্বপরিকল্পিতভাবে কাউকে হত্যা করে জেলে যাওয়ার অভিজ্ঞতা অর্জনের পরিকল্পনা করেছিল। কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা না থাকলেও ওই দিন দুর্ভাগ্যবশত হোসাইন তাদের সামনে পড়ে যায়। পরে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে একাধিকবার আঘাত করে হত্যা করা হয় এবং মরদেহ ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তারা।

হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাটি সম্পর্কে আরেক কিশোরকে জানানো হয়, যাতে সে মরদেহের খোঁজ রাখে। পরবর্তীতে মরদেহ উদ্ধারের পর তদন্তে নেমে প্রথমে ওই কিশোরকে আটক করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুরো ঘটনার সূত্রপাত হয়।

পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সী জানান, ওই কিশোরের তথ্য অনুযায়ী রোববার দুইজনকে বরিশাল থেকে এবং অন্যদের ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। যদিও তাদের স্থায়ী বাড়ি দেশের বিভিন্ন জেলায়, তারা পরিবারসহ ফতুল্লায় ভাড়া বাসায় বসবাস করত।

এছাড়া অভিযুক্তদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরিত্যক্ত ভবনের একপাশে থাকা ময়লার স্তূপ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকুও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।