মঙ্গলবার, 27 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

ঝোপে মিলল স্কুলছাত্রীর খণ্ডিত মরদেহ

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় মারিয়া আক্তার নামে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর খণ্ডিত ও বিকৃত মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় প্রশাসন। গত ছয় দিন ধরে নিখোঁজ থাকা ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক ছাত্রকে আটক করা হয়েছে

ঝোপে মিলল স্কুলছাত্রীর খণ্ডিত মরদেহ
ছবি : সংগৃহীত

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় মারিয়া আক্তার নামে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর খণ্ডিত ও বিকৃত মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় প্রশাসন। গত ছয় দিন ধরে নিখোঁজ থাকা ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক ছাত্রকে আটক করা হয়েছে।

গত রবিবার বিকেলের দিকে উপজেলার জামির্তা ইউনিয়নের চন্দননগর এলাকার একটি শ্মশান বা কবরস্থানের কাছাকাছি ঝোপঝাড়ের ভেতর থেকে এই মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত মারিয়া আক্তার উপজেলার শায়েস্তা ইউনিয়নের লক্ষীপুর দেওয়ানবাড়ি গ্রামের প্রবাসী মিজানুর রহমানের সন্তান এবং সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির নিয়মিত শিক্ষার্থী ছিলেন।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জুন স্কুলের টিফিন চলাকালীন সময়ে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর সাথে মারিয়াকে জড়িয়ে একটি বিশেষ অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ক্যামেরার ধারণকৃত চিত্র খতিয়ে দেখে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উভয় পক্ষের অভিভাবককে ডেকে নিয়ে মুচলেকা নেন এবং দুই শিক্ষার্থীকেই স্কুল থেকে ছাড়পত্র বা টিসি দিয়ে দেন। এই ঘটনার পর ওই দিনই মারিয়া তার নিজের বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। স্বজনরা সম্ভাব্য বিভিন্ন জায়গায় অনেক খোঁজাখুঁজি করেও কোনো হদিস না পেয়ে শেষ পর্যন্ত থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি লিপিবদ্ধ করেন। গত রবিবার চন্দননগর গ্রামের কবরস্থানের পাশের ঝোপে একটি অর্ধগলিত ও বিচ্ছিন্ন মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে খবর দিলে পুলিশ এসে সেটি উদ্ধার করে।

উদ্ধার অভিযানের সময় পুলিশ দেখতে পায়, নিহতের শরীরের ওপরের অংশটি গামছা বা ওড়না দিয়ে একটি গাছের ডালের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে এবং কোমর থেকে নিচের অংশটি মাটিতে বিচ্ছিন্নভাবে পড়ে আছে। এমন নৃশংস ও ভয়ংকর দৃশ্য দেখে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর পুলিশ মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে স্থানান্তরিত করে।

সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মজহারুল ইসলাম এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং পুরো ঘটনার পেছনের মূল রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে দশম শ্রেণির ওই ছাত্রকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন হাতে এলেই মৃত্যুর আসল কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।