বৃহস্পতিবার, 29 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হাতুড়িপেটায় এক নারী নিহত

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে হাতুড়ির আঘাতে নাহিদা বেগম (৫০) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় তাঁর ছেলে মহিবুল্লাহ ওস্তা (২২) আহত হয়েছেন। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার পাটগাতী মধ্যপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হাতুড়িপেটায় এক নারী নিহত
ছবি: সংগৃহীত

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে হাতুড়ির আঘাতে নাহিদা বেগম (৫০) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় তাঁর ছেলে মহিবুল্লাহ ওস্তা (২২) আহত হয়েছেন। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার পাটগাতী মধ্যপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত নাহিদা বেগম ওই গ্রামের শরিফুল ওস্তার স্ত্রী। আহত মহিবুল্লাহ ওস্তা টুঙ্গিপাড়া সরকারি কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন গোপালগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয়ের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মুহাম্মদ সরোয়ার হোসেন এবং গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মনজুরুল কবীর।

পরিবার ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিবেশী কাদের ওস্তার সঙ্গে জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ছয় মাস আগে উচ্চ আদালত শরিফুল ওস্তার পক্ষে রায় দেন এবং প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ জারি করেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, প্রতিপক্ষ প্রভাব খাটিয়ে জমিটি দখলে রেখেছিল।

রোববার সকালে ওই জমিতে বেড়া দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল শরিফুল ওস্তার পরিবারের। এ খবর পেয়ে কাদের ওস্তা তার ৫ ছেলে আব্দুল আলি, রাজু, ইয়াসিন, মিজান ও মানিকসহ কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে হাতুড়ি, রামদাসসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান বলে অভিযোগ উঠেছে।

নিহতের দেবরের ছেলে মোহাম্মদ আরমান ওস্তা জানান, রোববার রাতে কাদের ওস্তার ছেলের লোকজন মহিবুল্লাহর ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে হামলা করে। মহিবুল্লাহকে মারধরের সময় তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তার মা নাহিদা বেগমকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত মহিবুল্লাহকে ভর্তি করা হয়েছে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

আহত মহিবুল্লাহ ওস্তা বলেন, ‌**‘দীর্ঘদিন ধরে কাদের ওস্তা আমাদের জমি দখল করে রেখেছে। বাবা মামলা করতে করতে এক বছর আগে মারা যান। ছয় মাস আগে আদালত আমাদের পক্ষে রায় দেন। শনিবার টুঙ্গিপাড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করায় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আজ রোববার আমার মাকে হত্যা করেছে। আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই মারধর করা হয়েছে।’**

গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক মনজুরুল কবীর বলেন, ‘রাত পৌনে ১০টার দিকে নাহিদা বেগমকে হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।’