জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ অপু বর্তমান সরকারের নতুন বাজেটকে একটি সাহসী, বাস্তবসম্মত ও লোকমুখী পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণের মাত্র চার মাসের মাথায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই সুবিশাল বাজেট তৈরি করা হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য দেশের ১৮ কোটি নাগরিকের সার্বিক উন্নয়ন ও কল্যাণ সুনিশ্চিত করা। আজ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থ সালের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
হুইপ তাঁর বক্তব্যে বলেন, দীর্ঘদিনের অপশাসনের অবসান ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক উপায়ে দায়িত্ব নেওয়া বর্তমান সরকার সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে বদ্ধপরিকর। তিনি সংসদীয় গণতন্ত্রকে মজবুত করতে একটি কার্যকর ও শক্তিশালী বিরোধী দলের ভূমিকার ওপর জোর দেন, যা সরকারের যেকোনো ভুলত্রুটি সংশোধনে নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে। এত কম সময়ের মধ্যে এত বড় অঙ্কের বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে বিভিন্ন মহলে ওঠা প্রশ্নের জবাবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, প্রশাসনের সততা, দক্ষতা ও সাধারণ জনগণের সম্মিলিত প্রয়াসেই এই অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।
অর্থনীতি পুনর্গঠন ও নাগরিক জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের রোডম্যাপ তৈরি করায় তিনি প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করে জাতীয় অর্থনীতিকে আরও মজবুত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে সরকার নিরলস কাজ করছে। বাজেটে অন্তর্ভুক্ত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির প্রশংসা করে তিনি বলেন, দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য পরিবারভিত্তিক সহায়তা বা ফ্যামিলি কার্ড প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের মাঝে নতুন আশার আলো দেখিয়েছে, যা সরাসরি অসচ্ছল পরিবারগুলোকে সুরক্ষা দেবে।
শিক্ষা খাতের বিভিন্ন ইতিবাচক দিক তুলে ধরে হুইপ বলেন, একদম প্রান্তিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে জুতো, স্কুলব্যাগ ও পোশাক বিতরণের যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা দরিদ্র ঘরের সন্তানদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় ফিরিয়ে আনতে বড় ভূমিকা রাখবে। একটি গণতান্ত্রিক প্রশাসনের মূল চালিকাশক্তিই হলো পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর পাশে থাকা এবং জীবনযাত্রার মান বাড়ানো, যার স্পষ্ট প্রতিফলন এই বাজেটে রয়েছে।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি শরীয়তপুর অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে পদ্মা সেতু থেকে শরীয়তপুর ও হিজলা হয়ে পর্যটন নগরী কুয়াকাটা পর্যন্ত একটি নতুন রেললাইন স্থাপনের জোর দাবি জানান। তিনি উল্লেখ করেন, এই মেগা প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখলে রাজধানী ঢাকা থেকে মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে কুয়াকাটায় যাতায়াত করা সম্ভব হবে, যা গোটা দক্ষিণাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন শিল্পে অভূতপূর্ব জোয়ার নিয়ে আসবে।