বৃহস্পতিবার, 22 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

জুলাই শহীদ পরিবারকে আজীবন মাসিক ২০ হাজার টাকা ভাতার প্রস্তাব

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া ব্যক্তিদের পরিবার এবং আহত যোদ্ধাদের জন্য প্রথমবারের মতো মাসিক সম্মানী ভাতার প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। পাশাপাশি গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধাদের জন্য বিশেষ করসুবিধা হিসেবে করমুক্ত আয়ের সীমা বৃদ্ধির প্রস্তাবও রাখা হয়েছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে।

জুলাই শহীদ পরিবারকে আজীবন মাসিক ২০ হাজার টাকা ভাতার প্রস্তাব

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া ব্যক্তিদের পরিবার এবং আহত যোদ্ধাদের জন্য প্রথমবারের মতো মাসিক সম্মানী ভাতার প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। পাশাপাশি গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধাদের জন্য বিশেষ করসুবিধা হিসেবে করমুক্ত আয়ের সীমা বৃদ্ধির প্রস্তাবও রাখা হয়েছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে নতুন অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ ঘোষণা দেন।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে প্রণীত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। এর অংশ হিসেবে আন্দোলনে অবদান রাখা ব্যক্তি ও তাদের পরিবারকে বিশেষ আর্থিক সহায়তার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ প্রত্যেক ব্যক্তির পরিবার মাসিক ২০ হাজার টাকা করে সম্মানী ভাতা পাবে। একই পরিমাণ ভাতা পাবেন ‘এ’ ক্যাটাগরিভুক্ত গুরুতর আহত যোদ্ধারাও।

এ ছাড়া ‘বি’ ক্যাটাগরির আহতদের জন্য মাসিক ১৫ হাজার টাকা এবং ‘সি’ ক্যাটাগরির আহতদের জন্য ১০ হাজার টাকা ভাতার ব্যবস্থা রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধাদের জন্য কর সুবিধাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, সাধারণ করদাতাদের তুলনায় তাদের করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়িয়ে ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হবে। রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ প্রতিপাদ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে সম্ভাব্য বাজেট ঘাটতি হবে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।

সরকার এ ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা নিয়েছে।

আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে বাজেটটি উপস্থাপন করা হয়। বর্তমান সরকারের মেয়াদে অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর এটি প্রথম বাজেট। নতুন অর্থবছর কার্যকর হবে আগামী ১ জুলাই থেকে।