বৃহস্পতিবার, 22 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

জ্বালানির দাম বাড়লেও সেভাবে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পাবে না : বাণিজ্যমন্ত্রী

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও দেশের বাজারে এর প্রভাব সীমিত থাকবে বলে আশ্বস্ত করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর।

জ্বালানির দাম বাড়লেও সেভাবে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পাবে না : বাণিজ্যমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও দেশের বাজারে এর প্রভাব সীমিত থাকবে বলে আশ্বস্ত করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর।

তিনি জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানির যে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে, তাতে সাধারণ মানুষের ওপর অসহনীয় মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা নেই। সোমবার বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৭তম দিনে এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ও খাদ্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে প্রশ্নটি উত্থাপন করেন।

রুমিন ফারহানা তার প্রশ্নে উল্লেখ করেন যে, ইরান ও ইসরায়েল সংঘাতের ফলে জ্বালানি তেলের দাম এবং এর সরবরাহ নিয়ে বিশ্বব্যাপী এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে দেশে খাদ্যদ্রব্যসহ সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি উচ্চহারে থাকার পর বর্তমানে তা ৯ শতাংশের ওপরে অবস্থান করছে। এমন অবস্থায় জ্বালানির দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা আছে কি না, তা তিনি জানতে চান। এর উত্তরে বাণিজ্যমন্ত্রী বিভিন্ন দেশের অর্থনীতির উদাহরণ টেনে যুক্তি দেখান যে কেন বাংলাদেশে এর অভিঘাত খুব একটা প্রবল হবে না।

বাণিজ্যমন্ত্রী সংসদকে জানান, বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির দাম যে হারে বেড়েছে, বাংলাদেশে সেই তুলনায় অত্যন্ত সহনীয় বা পরিমিত মাত্রায় দাম সমন্বয় করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, সেখানে যুদ্ধের প্রভাবে অনেক প্রদেশে প্রতি গ্যালন তেলের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ৫ ডলার ছাড়িয়েছে। অনেক উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে জ্বালানির দাম নির্ধারণ পদ্ধতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত হয়, যেখানে সরকারের হস্তক্ষেপের সুযোগ থাকে না। সেই তুলনায় বাংলাদেশে ডিজেলের দাম ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১৫ টাকা করা হয়েছে, যা মাত্র ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি।

উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয়ের চুলচেরা বিশ্লেষণ করে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর বলেন, শিল্প-কারখানায় মোট উৎপাদন খরচের মাত্র ৭ থেকে ৮ শতাংশ ব্যয় হয় জ্বালানি খাতে। এই ক্ষুদ্র অংশের ওপর ১৫ শতাংশ দাম বাড়লে সামগ্রিক পণ্যের মূল্যে তার প্রভাব হবে নগণ্য। পরিবহন খাতের উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, একটি ট্রাক যদি ২০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে ৩০ লিটার ডিজেল ব্যবহার করে, তবে বাড়তি খরচ হবে মাত্র ৪৫০ টাকা। এই অতিরিক্ত ব্যয় যখন ১০ হাজার কেজি বা ১০ টন পণ্যের ওপর বণ্টিত হবে, তখন প্রতি কেজিতে দাম বাড়ার পরিমাণ হবে অতি সামান্য। তাই গাণিতিক হিসেবে এই মূল্যবৃদ্ধি ব্যাপক মূল্যস্ফীতি ঘটানোর মতো কোনো শক্তিশালী নিয়ামক নয়। সবশেষে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতেই বিশ্ববাজারের সাথে তাল মিলিয়ে এই পরিমিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।