বুধবার, 21 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

জয়-পলকের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ আজ

বিগত জুলাই মাসের গণবিক্ষোভের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে আজ সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে।

জয়-পলকের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ আজ
ছবি : সংগৃহীত

বিগত জুলাই মাসের গণবিক্ষোভের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে আজ সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর প্রধান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক বেঞ্চে সোমবার এই আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে গত ৩ মে এই মামলার ষষ্ঠ সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়ার কথা থাকলেও শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি। ফলে ট্রাইব্যুনাল সেদিনের নির্ধারিত শুনানি স্থগিত করে আজকের দিনটি পুনরায় নির্ধারণ করেন।

সংশ্লিষ্ট মামলাটিতে সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বর্তমানে কারাবন্দী রয়েছেন। অন্যদিকে সজীব ওয়াজেদ জয় দেশের বাইরে পলাতক থাকায় তার পক্ষে আইনি লড়াই ও আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য রাষ্ট্র কর্তৃক মনোনীত আইনজীবী মনজুর আলম নিয়োজিত আছেন।

মামলার পূর্ববর্তী কার্যক্রমে গত ২৬ এপ্রিল পঞ্চম সাক্ষী হিসেবে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) একজন কর্মকর্তার জেরা সম্পন্ন করা হয়। বিবাদী পক্ষের আইনজীবী আমিনুল গণি টিটোসহ অন্য আইনজীবীরা সেদিন তাকে বিভিন্ন বিষয়ে জেরা করেন। এর আগে গত ১৯ এপ্রিল ওই কর্মকর্তার জবানবন্দি রেকর্ড করেছিল আদালত।

প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আসামিদের বিরুদ্ধে মূলত তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগনামায় বলা হয়েছে, সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশনা পেয়ে ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে উসকানিমূলক তৎপরতা চালান পলক। এর ধারাবাহিকতায় পরদিন ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্থানে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ এবং আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র ক্যাডাররা সহিংস হামলা চালায়। এ ছাড়া দেশজুড়ে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দিয়ে মারণাস্ত্র ব্যবহারে প্ররোচনা দেওয়া এবং নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞে মদদ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এসব ঘটনায় রাসেল ও মোসলেহ উদ্দিনসহ অন্তত ২৮ জন প্রাণ হারান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এর বাইরে রাজধানীর উত্তরায় আরও ৩৪ জন নাগরিককে হত্যায় আসামিরা প্ররোচনা ও সহায়তা দিয়েছিলেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়।

চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনাল-১ আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে এই বিচারিক প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশ দেন। এর আগে গত বছরের ৪ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র আমলে নিয়েছিল আদালত।