কানাডার মন্ট্রিয়ল শহরে এক ভয়াবহ ও আকস্মিক বন্দুক হামলার ঘটনায় তিনজনের প্রাণহানি ঘটেছে। প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের মধ্যে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একজন কর্মকর্তা, সাধারণ এক পথচারী এবং স্বয়ং গুলিবর্ষণকারী ব্যক্তি রয়েছেন।
সোমবারের এই আকস্মিক সহিংসতার পর থেকে পুরো শহরজুড়ে এক থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং নাগরিকদের মাঝে গভীর শোক ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে।
যে এলাকায় এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটেছে, সেখানে প্রধানত ইহুদি সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস এবং আশেপাশে বেশ কিছু কোশের বিপণিবিতান ও খাবার দোকান রয়েছে। তবে এটি কোনো ধরনের বর্ণবাদী আচরণ, ঘৃণাজনিত অপরাধ নাকি সুপরিকল্পিত সন্ত্রাসী আক্রমণ, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনো স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।
ফরাসি ভাষার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম রেডিও কানাডার একটি প্রতিবেদনে আভাস দেওয়া হয়েছে যে, এই সহিংস আচরণের পেছনে চরমপন্থী 'ইনসেল' ধারণার যোগসূত্র থাকতে পারে। এই বিশেষ মানসিকতার পুরুষেরা মূলত নিজেদের একাকীত্ব এবং নারী সঙ্গী না পাওয়ার ক্ষোভ থেকে সমাজবিরোধী ও উগ্র কর্মকাণ্ডের দিকে ধাবিত হয়। ইতিপূর্বে ২০১৮ সালেও টরন্টোতে এই একই মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ এক ব্যক্তির চালানো গাড়িচাপায় ১০ জন সাধারণ মানুষের নির্মম মৃত্যু হয়েছিল।
হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে মন্ট্রিয়লের পুলিশ প্রধান ফাদি দাগের গভীর দুঃখ প্রকাশ করে এটিকে একটি চরম দুঃস্বপ্ন ও ভয়াবহ ট্র্যাজেডি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
পুলিশের দাপ্তরিক বিবরণ অনুযায়ী, সোমবার বেলা সাড়ে এগারোটা নাগাদ কোট-দে-নেইজ নামক অঞ্চল থেকে অনবরত গুলি চলার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশেষ বাহিনী। সেখানে একটি বহুতল ভবনের অভ্যন্তর থেকে বড় আকারের আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নিয়ে ওই ব্যক্তি নির্বিচারে গুলি ছুড়ছিল। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ বাধে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুপুরের দিকে হঠাৎ মুহুর্মুহু গুলির আওয়াজে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। জীবন বাঁচাতে সাধারণ মানুষ তড়িঘড়ি করে নিকটস্থ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও রেস্তোরাঁগুলোতে আশ্রয় নিতে শুরু করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের কয়েকজন আরও জানান, আক্রমণকারী ব্যক্তির পরনে সামরিক কায়দার পোশাক ছিল এবং সে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালাচ্ছিল।