লাখো শোকাহত মানুষের ঢলে বিদায় জানানো হলো ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে। তেহরানে অনুষ্ঠিত তার জানাজার নামাজে দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক, সামরিক ও ধর্মীয় নেতাদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের দাবিতে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, দেশের অন্যতম শীর্ষ ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানি খামেনি এবং তার পরিবারের চার সদস্যের জানাজার নামাজে ইমামতি করেন।
জানাজায় উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং বিচার বিভাগের প্রধান গোলামহোসেইন মোহসেনি এজেই।
এ ছাড়া ইসলামিক রেভ্যুলেশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সের কমান্ডার ইসমাইল কানি এবং আইআরজিসির প্রধান আহমাদ ওয়াহিদিও জানাজায় অংশ নেন।
এপি জানায়, খামেনির ছেলে মাসুদ, মেইসাম ও মোস্তফা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণ এবং ইসরায়েলের হুমকির কারণে তার উত্তরসূরি ও আরেক ছেলে মোজতবা খামেনি জানাজায় অংশ নেননি।
১৪ মাস বয়সী নাতনিরও জানাজা
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত খামেনির পরিবারের চার সদস্যের জন্যও একই দিনে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
তাদের মধ্যে ছিলেন খামেনির মাত্র ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা মোহাম্মাদি গোলপায়েগানি। তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, জানাজার সময় ছোট্ট জাহরার কফিনটি তার দাদার কফিনের পাশেই রাখা হয়েছিল।
তাসনিম জানায়, জাহরার বাবা মোহাম্মদ জাওয়াদ মোহাম্মাদি গোলপায়েগানিও জানাজার নামাজে অংশ নেন।
একই হামলায় নিহত হন জাহরার মা এবং খামেনির কন্যা বুশরা খামেনি।
প্রতিশোধের দাবিতে স্লোগান
তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় দ্বিতীয় দিনের বিদায় অনুষ্ঠানে লাখো মানুষ খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। আগামীকাল রাজধানীজুড়ে শোকযাত্রা ও দাফন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত জনতার বড় একটি অংশকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী স্লোগান দিতে দেখা যায়। “আমেরিকা ধ্বংস হোক” এবং “ইসরায়েল ধ্বংস হোক”—এমন স্লোগানের পাশাপাশি অনেকেই খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার দাবি জানান।
চার মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানের প্রথম দিনেই বিমান হামলায় খামেনি নিহত হন। ওই হামলায় তার পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাও প্রাণ হারান। সে সময় সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ে একটি বৈঠক চলছিল।
এরপর ইরানে টানা ৪০ দিনেরও বেশি সময় ধরে চলা হামলায় রাজনৈতিক কেন্দ্র ও সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি সাধারণ জনগণও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ে।
শেষ বিদায়ে মেট্রোয় ৭০ লাখের বেশি যাত্রা
তাসনিমের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে রোববার সকাল ৭টা পর্যন্ত তেহরান মেট্রো নেটওয়ার্কে ৭০ লাখের বেশি যাত্রা নিবন্ধিত হয়েছে।
তবে এই হিসাবের মধ্যে একই ব্যক্তি একাধিকবার যাতায়াত করে থাকতে পারেন।
খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যদের শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বিপুল মানুষের সমাগমের কারণেই যাত্রীসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তেহরানের ইমাম খোমেনি মোসাল্লায় আয়োজিত অনুষ্ঠানটি স্থানীয় সময় রাত ৮টা পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে।
তাসনিম জানিয়েছে, অংশগ্রহণকারীদের যাতায়াত সহজ করতে আয়োজকদের পক্ষ থেকে মেট্রো ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।