যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় প্রাণ হারানো ইরানের শীর্ষ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায়ের জন্য বিশাল প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে দেশটির প্রশাসন।
গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষভাগে নিহত হওয়া এই নেতার কফিনটি গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তেহরানের একটি পবিত্র উপাসনালয়ে নিয়ে আসা হয়। সেখানে সরকারের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা ও সামরিক কমান্ডারেরা উপস্থিত হয়ে তাঁর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।
আল জাজিরার বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী শনিবার থেকে তেহরানের বিখ্যাত গ্র্যান্ড মোসাল্লা চত্বরে খামেনির ঐতিহাসিক জানাজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হতে যাচ্ছে। এটিকে ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম গণজমায়েত ও বিদায় অনুষ্ঠান হিসেবে রূপ দিতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী সোমবার তেহরানের প্রধান প্রধান সড়কে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে এক বিশাল শোক মিছিলের আয়োজন করা হবে। রাজধানী থেকে কফিনটি এরপর ৭ জুলাই পবিত্র শিয়া নগরী কোম হয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ইরাকের নজফ ও কারবালা শহরে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে অন্যান্য ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী ৯ জুলাই খামেনির জন্মস্থান মাশহাদে তাঁকে সমাহিত করা হবে।
দীর্ঘ ছয় দিনের এই রাষ্ট্রীয় আয়োজনে প্রায় দেড় থেকে দুই কোটি শোকাতুর মানুষের সমাগম হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয় প্রশাসন। ব্যাপক জনসমাগম সামাল দিতে এবং যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে পুরো দেশজুড়ে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। এই শেষকৃত্যে রাশিয়া, চীন ও ভারতসহ বিশ্বের ৩০টিরও বেশি দেশের সরকারি প্রতিনিধি দল এবং অন্তত ১০০টি দেশের শীর্ষস্থানীয় ধর্মীয় নেতারা যোগ দেবেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ইসলামাবাদ ও তেহরানের মধ্যকার সুসম্পর্কের কথা উল্লেখ করে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি ইতিমধ্যে ইরানে পৌঁছেছেন। তিনি ইরানকে নিজ দেশের বাইরে তাঁদের দ্বিতীয় বাসস্থান হিসেবে অভিহিত করেছেন। এছাড়া পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও এই রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে। এর আগে খামেনির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পাকিস্তানে সৃষ্ট তীব্র ক্ষোভ ও বিক্ষোভে অন্তত ২৩ জন নিহত হন।
এদিকে, চলমান এই যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝে বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে এসেছেন ইরানের প্রভাবশালী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) ভারপ্রাপ্ত প্রধান কমান্ডার আহমদ ওয়াহিদি, যা রাজনৈতিক মহলে বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে।