বৃহস্পতিবার, 29 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

কঙ্গোতে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে প্রাণঘাতী ইবোলা, ৬০০ মানুষের মৃত্যু

ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে (ডিআর কঙ্গো) ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতি দিন দিন আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।

কঙ্গোতে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে প্রাণঘাতী ইবোলা, ৬০০ মানুষের মৃত্যু
ছবি : সংগৃহীত

ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে (ডিআর কঙ্গো) ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতি দিন দিন আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। দেশটির সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত সেখানে ১ হাজার ৭৫৯ জন এই মারাত্মক ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অন্তত ৬০০ জন ইতিমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন।

এই সংক্রামক ব্যাধির সবচেয়ে বড় আঘাতটি এসেছে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় ইটুরি প্রদেশে। উদ্ভূত সংকটের মাঝেই সেখানে বকেয়া বেতন ও সুযোগ-সুবিধা না পাওয়ার ক্ষোভে চিকিৎসাসেবার সাথে যুক্ত সম্মুখসারির বহু কর্মী কাজ ছেড়ে দিচ্ছেন। জাতীয় ও প্রাদেশিক প্রশাসনের কাছে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় স্বাস্থ্যকর্মীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, দ্রুত তাঁদের পাওনা বুঝিয়ে দেওয়া না হলে তাঁরা পূর্ণাঙ্গ ধর্মঘটে যাবেন।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এপি-র কাছে মাঠ পর্যায়ের কয়েকজন স্বাস্থ্যকর্মী অভিযোগ করেছেন, গত ১৫ মে এই রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর থেকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁদের কোনো নিয়মিত বেতন কিংবা জরুরি ঝুঁকি ভাতা দেওয়া হয়নি। প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সরঞ্জামের তীব্র ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও তাঁরা জীবন বাজি রেখে কাজ করে যাচ্ছেন, অথচ কর্র্তৃপক্ষ তাঁদের সাথে ক্রমাগত অন্যায় ও অযৌক্তিক আচরণ করছে।

ইটুরি প্রদেশের প্রধান শহর বুনিয়ার মহামারী পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ কমিটির অন্যতম সদস্য ডা. বিয়েনসি কানো এই অচলাবস্থার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ইবোলার প্রকোপ শুরুর প্রথম দিন থেকেই স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা তাঁদের ন্যায্য পাওনা ও আর্থিক সুবিধা মিটিয়ে দেওয়ার জন্য দাবি জানিয়ে আসছেন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বর্তমান এই সংক্রমণের জন্য ইবোলার ‘বুনডিবুগিও স্ট্রেইন’ দায়ী, যার সুরক্ষায় এখন পর্যন্ত চিকিৎসাবিজ্ঞানে অনুমোদিত কোনো প্রতিষেধক বা ভ্যাকসিন তৈরি হয়নি। যদিও ইবোলার অন্যান্য রূপের তুলনায় এই নির্দিষ্ট ধরনটি কিছুটা কম শক্তিশালী, তবুও কোনো কার্যকর প্রতিরোধক বা টিকা না থাকায় মাঠ পর্যায়ে এই মহামারী নিয়ন্ত্রণ করা চিকিৎসকদের জন্য অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়েছে।